বুধবার, ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ইং

গরমে বেড়েছে ডাবের চাহিদা: মুল্য চড়া

নিউজটি শেয়ার করুন

মনোয়ার চৌধুরী::

এই গরমে রমজানের সিয়াম সাধনার পর রোজাদারদের কাছে ঠান্ডা এক গ্লাস শরবত বা মিষ্টি জাতিয় পানিয় যেনো বহুল কাঙ্খিত। তাই পরিবার পরিজনকে নিয়ে ইফতারে সকলেই হালাল পানিয় রাখেন। অনেকেই কচি ডাবের পানি বা লেবুর শরবতকে বেছে নিয়েছেন। ডাবের পানি যেভাবে শতভাগ বিশুদ্ধ তেমনি পুষ্টিগুন থাকায় ও মুখরোচক হওয়ায় এটিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষ। তাই শহরের গুরুত্বপুর্ণ মোড়ে ও বাজারে বেড়েছে ডাবের চাহিদা। সুযোগ বুঝে মুনাফা লাভের চেষ্টায় সবুজ এসব কচি ডাবের দামও বাড়িয়েছেন ব্যবসায়িরা।

শহরঘুরে ডাব বেচাকেনায় ব্যবসায়ি ও ক্রেতাদের ব্যস্ততার খবর তোলে এনেছেন এ প্রতিবেদক। শহরের আলফাত স্কয়ার, মধ্যবাজার, পুরাতন জেলরোড এলাকা, নতুন বাজার, কাজির পয়েন্ট, বিহারী পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাবের বেচাকেনা চলছে অন্যান্য সময়ের চেয়ে তুলনামুলক বেশি। দামও রাখা হচ্ছে প্রতিটি ৬০টাকা করে। তবে আকারের উপরও নির্ভর করছে এসবের মুল্য।

শহরের নবীনগর এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমেদ বাজারে ডাব কিনতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন বাজার আর শহরের অলিগলিতে এখন ভালোই সবুজ ডাব চোখে পরছে, প্রায়ই কেনা হয়, তবে দাম আগের চেয়ে রমজান মাসে বেড়েছে, কেউই দাম কমাতে রাজি নয়, ছোট ডাবও ৬০টাকা করে রেগুলার কিনতে হচ্ছে’।

ওয়েজখালী এলাকার শাহরুখ মিয়া বলেন‘ অসুখের সময়ও ডাব কাজে লাগে, আজকাল বাসায় বাসায় আগের মতো নারিকেল গাছ নাই, তাই বাজার থেকেই ডাব সংগ্রহ করেন বেশিরভাগ মানুষ, দাম টা দিন দিন বাড়ছে, আরও কমের মধ্যে হলে সবাই সহজেই কিনতে পারতো, বিক্রি আরও বাড়তো, বাজারে সব খাবারে ভেজাল থাকলেও এইটার উপরে বিশ্বাস আছে এখনো, তাই ইফতারে মায়ের জন্য নেই’।

শহরের কাজির পয়েন্ট এলাকার ডাব ব্যবসায়ী ফকর উদ্দিন বলেন ‘ আমরা শহরের বাহির থেকে ডাব কিনে এখানে এনে বিক্রি করি, নিজের গাছের ডাব হলে দাম কিছুটা কম রাখতে পারতাম, আমরা দিরাই, রাধানগর, পাগলা, মঙ্গলকাটাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাব কিনে গাড়িতে করে নিয়ে আসি, এসব আনতে গাড়িভাড়া আছে, শ্রমিককে টাকা দিতে হয়, ৩৫টাকায় কেনা ডাব আমাদেরকে ৫০থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে হচ্ছে, আর ৪২টাকা দামে আমরা যেগুলো কিনি সেগুলো ৫৫ টাকা থেকে ৬০টাকা ৬৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করি।’

শহরের বিহারী পয়েন্টের আরেক ডাব ব্যবসায়ী ফাহিম বলেন ছোট- বড় সাইজের ডাবগুলো আমরা ৫০থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছি , রমজান মাসে অনেক কাস্টমার বেড়েছে, খরচ বাদেও ব্যবসা করে কোনরকমে লাভ হচ্ছে, প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টা ডাব বিক্রি করতে পারি’ ।

গ্রীণলাইফ মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন সার্জন ডা. হোসনে জাহান সুলতানা বলেন ‘ এই রমজানে রোজাদারদের জন্য ডাবের পানি প্রয়োজন, এটি ত্বকের জন্য খুবই উপকারী, একটি ডাবে মোট পানির পরিমাণ প্রায় ৯৪ শতাংশ। তাই পুরো দেহের শিরা-উপশিরায় সঠিকভাবে রক্ত চলতে সাহায্য করে, পানি বেশি পান করলে কিডনির কাজ করতে সুবিধা হয়, দেহে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বাড়ে, ত্বকসহ প্রতিটি অঙ্গে পৌঁছায় বিশুদ্ধ রক্ত, ফলে পুরো দেহ হয়ে ওঠে সতেজ ও শক্তিশালী। তিনি বলেন ‘ডাবের পানিতে আছে প্রচুর পরিমাণে রিবোফ্লেবিন, নিয়াসিন, থায়ামিন পেরিডক্সিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান, এছাড়া ডাবের পানিতে অ্যান্টি ভাইরাল এবং অ্যান্টি ব্যকটেরিয়াল উপাদান আছে। যা শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে’।

সুনামগঞ্জ২৪.কম/ এমসি/ এমএআই

নিউজটি শেয়ার করুন

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™