বুধবার, ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ইং

সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাক ও কসমেটিকস কিনছেন নারীরা

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রিয়াংকা কর প্রিয়া, প্রতিবেদক(নারীমঞ্চ)::

আরমাত্র কয়টা দিন বাকি। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর নিকটবর্তী। শুরু হয়ে গেছে পোশাক বেচা-কেনার ধুম। ঈদের নিকটবর্তী দিনগুলোতে বাজারে ভীড় ঠেলে কেনাকাটা করার চেয়ে অনেকেই কয়েকদিন আগে থেকে সেরেছেন পরিবার ও নিজের জন্য পোশাক সংগ্রহ করার কাজ টা। চাকুরিজীবীরা বর্তমানে পছন্দ অনুসারে কিনছেন নানা রকমের পোশাক। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরাও দোকানে রেখেছেন নতুন পোশাকের কালেকশন।

সম্প্রতি শহরের মধ্যবাজার এলাকার বিভিন্ন শপিংসেন্টার, পূর্ববাজার এলাকার সুরর্মা হর্কাস, সমবায় মার্কেট, দ্দোজা শপিংসেন্টার, লন্ডন প্লাজা,হাছন নগর রোডের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট, ফুটপাতের দোকান, বিভিন্ন কসমেটিকসের দোকান ও আফজাল সু সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন এ প্রতিবেদক। শপিং সেন্টার গুলোতে মানুষের ঠাসাঠাসি চোখে পড়লেই এখন যে কেউই বলবে দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ উৎসব।

একমাস সিয়াম সাধনা শেষে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দে মেতে উঠবেন সবাই। সময় যত ঘনিয়ে আসছে প্রায় প্রতিদিনই মার্কেটগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে ক্রেতাদের উপস্থিতি। প্রতিবছরের মতই ড্রেসের সাথে মিল রেখে ক্রেতারা কিনছেন কসমেটিকস ও জুতাসহ প্রয়োজনের সবকিছু। এবছর নারীদের পছন্দ অনুযায়ী দোকানে রয়েছে নতুন কসমেটিকস এর কালেকশনও। ব্যবসায়ীরা জানান এ বছর ভিন্ন রঙের সুতার তৈরি কানের দুল ও গলার অলংকারসহ নানা ধরনের কসমেটিকস এর কালেকশন রয়েছে দোকানগুলোতে, যা ক্রেতারা পোশাকের পাশাপাশি কম-বেশি কিনছেন।

এবছর ঈদুল ফিতরে নারীদের পোশাকের কালেকশন সবচেয়ে বেশি বললেই চলে। তবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নানা ধরনের কাতানের শাড়ি ও ড্রেস। পছন্দের তালিকায় অন্যান্য পোশাকের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজাইনের টপস ও থ্রী-পিছ কিনতে ভুল করছেন না তরুণীরা। সব বয়সী নারী ক্রেতারাই কমবেশি শাড়ি কিনছেন শহরের বিভিন্ন শপিং সেন্টার ঘুরে। বাহারি নকশার পাশাপাশি রঙ পছন্দ নিয়ে বান্ধবিদের অনেকেই করছেন কারাকারি। আর তরুণীদের কথা চিন্তা করেই এবছর ঈদ বাজারে শাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ড্রেসেরও কালেকশন রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

এবারের ঈদ বাজারে নারীদের পছন্দের শাড়িগুলো পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দামে। মধ্যবাজারের বস্ত্রমেলার নারায়ণ বনিক নামে একজন বিক্রেতা বলেন ‘গ্রামীন শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। নানা ধরণের বেনারসি শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৪০০০ টাকা থেকে ১২০০০ টাকা দামে। বস্ত্রমেলাতে আরও রয়েছে নতুন কালেকশন রাখিবন্ধন, রাই-কিশোরী শাড়ি। এগুলো পাওয়া যাচ্ছে যথাক্রমে ২০০০ টাকা থেকে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত দামে। পূর্নিমা ক্লথ স্টোরএ ক্রেতারা দেখছেন সুতি কাতানের ড্রেস। এর মূল্য ৩০০০টাকা। পূর্নিমা ক্লথ স্টোর এর বিক্রেতা জানান কাতান ছাড়াও নারীদের জন্য বিভিন্ন ড্রেস পাওয়া যাচ্ছে ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত দামে। হাছন নগরের, এলি প্লাজায় এক পোশাক বিক্রেতা জানান এবছর টপসের বিভিন্ন ধরনের কালেকশন রয়েছে উনার দোকানে। টপসগুলো রয়েছে বিভিন্ন দামে। ৫০০টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে এসব।

শহরের হাছননগর রোডে মিরর ফ্যাশন হাউজের সুনামগঞ্জ শাখায় সব বয়সী নারীরাই যাচ্ছেন পছন্দের পোশাকটি কিনতে। মিরর এর ব্যবসায়ী জানান, শাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ড্রেস এর প্রতি আকর্ষণ কম নয় ক্রেতাদের। তাদের মতে বিভিন্ন ধরনের ‘ওয়ান পিছ’ পাওয়া যাচ্ছে ১১৯০ টাকা থেকে ২৫৯০ টাকা পর্যন্ত, এবং থ্রী-পিছ এর দাম ১৭৯০ টাকা থেকে ২৩৯০ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি মেয়েদের জিন্স প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে ৬৯০ টাকা থেকে ৯৯০ টাকা পর্যন্ত দামে। হাছন নগর রোডে নোঙ্গর এ রয়েছে ড্রেসের নিত্য নতুন কালেকশন। তাছাড়াও রয়েছে মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের পার্স এবং হিল জুতা। মহিলাদের ড্রেস পাওয়া যাচ্ছে ৪৫০ টাকা থেকে ২৬০০ টাকা পর্যন্ত এবং পার্সগুলো রয়েছে ২৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে। থ্রী-পিছ রয়েছে ৯৪০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা দামে এবং জুতা গুলোর দাম ৩৫০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত।

এবারের ঈদ বাজারে হাছন নগর রোডের ইয়েস পয়েন্ট এ রয়েছে নানা রঙের রুচিশীল পোশাকের কালেকশন। এই দোকানে গ্রাউন্ড ড্রেস পাওয়া যাচ্ছে ২৩৯০ টাকা থেকে ৫৫৯০ টাকা পর্যন্ত। থ্রী-পিছ পাওয়া যাচ্ছে ১২৯০ টাকা থেকে ১৬৯০ টাকা পর্যন্ত মুল্যে।


কাপড়ের দোকানের পাশাপাশি কসমেটিকসের দোকানগুলোতে লক্ষ্য করা গেছে ক্রেতাদের ভীড়। প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের প্যারিস কসমেটিকস এর ব্যবসায়ী জানান, এবছর নতুন কালেকশনের মাঝে রয়েছে গলার ওক্সি-এন্টিকসের এবং জয়পুরী গলার পাওয়া যাচ্ছে ১১০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত এবং সুতার তৈরি কানের দুল পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ৪৫০ পর্যন্ত দামে। তাছাড়াও রয়েছে মেয়েদের নানা রকমের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। নারীরা কিনছেন তাদের ড্রেস বা শাড়ির সাথে মিলিয়ে ভিন্ন ধরনের কানের, গলার জুয়েলারী ও লিপস্টিক প্রভৃতি।

এসব ছাড়াও এপেক্স ও বাটা জুতার শো রুমসহ অন্যান জুতার দোকানে রয়েছে ক্রেতা হিসেবে নারীদের ভিড়। নারীরা কিনছেন তাদের পছন্দের রুচিশীল জুতা। আফজাল সু বিক্রেতা আলম সু ষ্টোরে রয়েছে নানা ধরনের নতুন কালেকশন। এর মাঝে নারীরা বেশি পছন্দ করছেন পেন্সিল হিল যা পাওয়া যাচ্ছে ১৩৭৫ টাকা থেকে ২৪৭৫ টাকা পর্যন্ত এবং বক্স হিল পাওয়া যাচ্ছে ১২৫০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে।
ফুটপাত থেকেও ক্রয় করছেন ক্রেতারা। ফুটপাতের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জোহর আলী বলেন, এবছর হাওরের ফসল সার্বিক অর্থে ক্রয় না করতে পারাতে অনেকেই এখনও পোশাক ও জুতা ক্রয় করছেন না, তবে শেষ সময়ে তারা সন্তানদের জন্য কিনতে পারেন’। একজন নারী ক্রেতা ফারজানা বেগম জানান, ‘ঈদে শাড়ি কিনতে বাজারে এসেছিলাম, কিন্তু এসে ড্রেস পছন্দ হওয়ায় ড্রেস নিয়ে নিয়েছি,আবার আসবো শাড়ি কিনতে।’

শহরের মুক্তার পাড়া এলাকার লন্ডন প্লাজা’র ব্যবসায়ীরা জানান, তাতের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা দামে। নানা রঙের জরঝেট শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ২৫০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকায়, রেশমি জামদানী পাওয়া যাচ্ছে ১৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা দামে। তবে শাড়ি ছাড়াও নারীদের জন্য বিভিন্ন ড্রেস পাওয়া যাচ্ছে ১০০০ টাকা থেকে ৮০০০ টাকা দামে। সাবিনা নামে একজন ক্রেতা জানান, এবার ঈদের বাজারে দোকানে কাপড়ের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি । ফলে পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পেলেও দামের জন্য অনেক ক্রেতারা পোশাক কিনতে এসে হতাশ।

মধ্যবাজারের পিউ ক্লথ স্টোর এর বিক্রেতা রতন তালুকদার বলেন, ‘ক্রেতাদের আগ্রহ দেখে আমরা আরও নতুন পোশাক এনেছি। ঈদ বাজারের কেনাকাটা গত বছর গুলোর তুলনায় ভালো হচ্ছে’।

সুনামগঞ্জ২৪.কম/ পিকেপি/ এমএআই

নিউজটি শেয়ার করুন

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™