সোমবার, ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সুনামগঞ্জ পৌরনির্বাচনের আচরণবিধি বেপরোয়া লঙ্ঘন প্রার্থীদের

মনোয়ার চৌধুরী::

আগামী ১৬ জানুয়ারী সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।এই নির্বাচনে মেয়র পদে ৩জন প্রার্থী লড়ছেন,ও কাউন্সিলর পদ প্রার্থী লড়ছেন ৪৯ জন, নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ১৩ জন। ভোটার সংখ্যা ৪৬ হাজার ৯শ ৭৯ জন। নির্বাচন কমিশনারের মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে, এ দাবি নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক নেই। তবে এটাকে সুষ্ঠু নির্বাচন বলতে কিছু দিক বিবেচনা করার থাকে। তার মধ্যে আচরণবিধির সুষ্ঠু প্রতিপালন একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয়, তার জন্য প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকদের কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। বিধিনিষেধও থাকে তাঁদের কার্যক্রমে। সীমারেখা টেনে দেওয়া হয় প্রচার–প্রচারণাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে।

তবে সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আচরণ বিধিমালা ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনে আচরণবিধির বেপরোয়া লঙ্ঘন নিয়ে অনেকের অভিযোগ কিন্তু চুপ করে আছে নির্বাচন কমিশন। আচরণবিধি পুরোপুরি মানছেন না কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর সহ প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরাও। প্রচারের প্রথম দিন থেকেই প্রচারের সময় মিছিল, শোভাযাত্রাসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা চিত্র দেখা গেছে।

মিছিল করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ বিএনপির প্রার্থী মুর্শেদ আলম এর বিরুদ্ধে। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডেন এলাকায় গতকাল ১০জানুয়ারি সন্ধ্যায় বিএনপির কর্মী-সমর্থক নিয়ে ধানের শীষের মিছিল করতে দেখা গেছে। এব্যাপারে মোটোফোনে জানতে চাইলে, বিএনপির মেয়র প্রার্থী মুর্শেদ আলম বলেন,আমি নির্বাচন আচরণবিধি বঙ্গ করিনি , কোনো মিছিল করা হয়নি,আমরা নির্বাচনী আইন, আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাচ্ছি। জনদুর্ভোগ যেন না হয়, সে ব্যাপারেও আমরা দায়িত্বশীল আছি। চেষ্টা করছি কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে প্রচার চালাতে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নাদের বখত দলীয় মনোনয় পাওয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। নিয়মকরে করে প্রতিদিনই দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।এছাড়াও প্রচারকালে উচ্চ শব্দে বাজতে থাকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘থিম সং’। এ সময় উচ্চ স্বরে স্লোগান ও মিছিল চলতে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র প্রার্থী নাদের বখত সাথে কথা বলতে বার বার মোটোফোনে কল দিয়ে মিলেনি নৌকার প্রতিকের প্রার্থীকে।

একইভাবে সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধির লঙ্ঘনে কাউন্সিলর প্রার্থীরা বেপরোয়া ,প্রতিদিন নির্বাচনী প্রচারে আছেন পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস সাত্তার মোঃ মামুন। গত শুক্রবার ৮ জানুয়ারি শহরের মোহাম্মদপুর থেকে তাঁর নির্বাচনী প্রচার শুরু করে পৌরশহরের ১নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া মহল্লার রাস্থা বন্ধ করে শত শত কর্মী-সমর্থক নিয়ে মিছিল কনের আব্দুস সাত্তার মোঃ মামুন। এতে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের রাস্তায় রিকশ, অটোরিকশ, সিএনজি, মোটরসাইকে সহ পথ চলতি মানুষরা আটকে পরেন।

এব্যাপারে আব্দুস সাত্তার মো: মামুনের সাথে কথা বললে অস্বীকার করে বলেন আমি মিছিল করিনি।

শহরের স্থানীয় বাসিন্দা এডভোকেট মোঃ মুশফিকুর রহমান পীর রুহেল বলেন ,সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আমরা লক্ষ করলাম,নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি মালা বঙ্গ করে শত শত মানুষ নিয়ে রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল করছেন প্রার্থীরা,এসব প্রার্থীদের নির্বাচনীয় মিছিল ও শোডাউনের সময় এলাকার ছোট বড় রাস্তাঘাটে ব্যাপক জনজট লেগে পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এসব প্রার্থীদের জ্ঞিনহারা কাজে অতিষ্ঠ আমরা। আমি জেলা নির্বাচন কমিশনের কাছে সজাগ দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

তবে এই পৌরসভা নির্বাচনে কিছু কিছু প্রার্থী মিছিল ছাড়াই নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কেবল হেঁটে হেঁটে প্রচারপত্র বিলি করেন। তাঁদের সঙ্গে এলাকার স্থানীয় নেতা-কর্মী সমর্থকের যোগ দিতে দেখা গেছে।

এব্যাপারে রিটারিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, কোনো ধরনের মিছিল শোডাউন করা যাবে না ,প্রার্থী শুধুমাত্র পথসভা করতে পারেন,তবে সেটা পুলিশের পূর্ব অনুমদন বা পার্শ্ববর্তি পুলিশ স্টেশনের অনুমতি নিয়ে করতে পারেন, তবে স্বাস্থ্যবিধি মনে করতে হবে। এছাড়া কোনো মিছিল শোভাযাত্রা গাড়িশোডাউন, মোটরসাইকে শোডাউন করা যাবে না ।

এসময়ে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা আছে ৯টি ওয়ার্ডের জন্য। অভিযোগ পেলে অভিযোগের সত্যতা পেলে তাৎক্ষণিক ভাবে আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।