বুধবার, ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ইং

বন্ধ হোক প্রাথমিকে বৈষম্য:সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেয়া হোক

নিউজটি শেয়ার করুন

আনিসুল হক লিখন

বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার বেশ উন্নতি হয়েছে দিন দিন আরো হবে। বিশেষ করে শিশুদের মিড ডে কার্য্যক্রম চালু, উপবৃত্তি সহ বিভিন্ন কার্য্য ক্রম। শিক্ষাব্যবস্থাও আগের চেয়ে অনেক উন্নত। কিন্তু ভিতরে ভিতরে একটি বিষযেই ফুঁসছে সহকারী শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষকদের একধাপ নীচের গ্রেড ১১ তম গ্রেডে বেতন দেয়া নিয়ে। প্রাথমিক শিক্ষার মূল সত্য কথাটি হলো সবচেয়ে নিগৃহীত ও বৈষম্যের শিকার সরকারী সহকারী শিক্ষকগণ,যাঁরা প্রাথমিক শিক্ষার মূল মেরুদন্ড।তাদের আগে যা ছিলো এখনো তাই। একই প্রতিষ্টানে সবারই উন্নতি হলো, বেতন বাড়লো নিয়ম ব্যতিরেকে স্বাপ্নিক চাহিদায় প্রধান শিক্ষক হয়ে গেলো অনেকেই।

যেখানে বৈষম্য থাকবে সেখানে মানষিক রোগ এমন ভাবে ভর করে যা এক পর্যায়ে মহা রোগে পৌছে।
প্রধান শিক্ষকরা তাঁদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছে নিরব। একসময় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির দাবি ও চাওয়া ছিলো সকলের উন্নতি। কিন্তু এখন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেলো। সাধারণত কঠিন বৈষম্য যাকে বলে।এ-ই অবস্থা যদি চলতে থাকে দিন দিন প্রাথমিক শিক্ষাতেও দ্বন্ধ রাজনীতি মহামারী আকারে প্রবেশ করবে।

প্রাথমিক শিক্ষাতে যতোক্ষণ পর্যন্ত না শিক্ষকদের পদোন্নতি এবং সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকদের নিচের ধাপে ১১ তম গ্রেড না পাচ্ছে ততোক্ষণ পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন চিন্তা করা বোকামি ছাড়া কিছু নয়। দেহ সাজালে কি হবে আত্মা যদি রোগা গ্রস্থ থাকে তেমনি প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থাও। প্রাথমিক শিক্ষার সকলের উন্নয়ন হয়েছে, রেজিস্টার স্কুলের শিক্ষকদের সরকারীকরণ হয়েছে, মহাপরিচালক মহোদয়কে প্রথম গ্রেড দিয়েছেন,প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড কিন্তু সম্প্রতি শুনছি সহকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের ১২ তম গ্রেড দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এখন কথা হলো সবার উন্নতি হলো শুধু বৈষম্যের শিকার হলো প্রথম থেকে সহকারী শিক্ষকগণ। এক ঘরে দুই নীতি কখনো সুফল বয়ে আনেনা।এ-ই নিরব বৈষম্য-যে কতটুকু ক্ষতিকর নিরবে গবেষণা করলেই পাওয়া যাবে। হয় বৈষম্য দূর হোক নয় প্রধান শিক্ষকদের১৪তম গ্রেডে দেয়া হোক আর সহ শিক্ষকরা ১৫তম গ্রেডে থাক।

এক ঘরে দ্বন্ধের চেয়ে সরকারের টাকাগুলো বাঁচুক আরও লক্কর ঝক্কর শিক্ষকদের জীবন চলছে চলতে থাকুক এটাও মন্দনা।

কেউ খাবে কোরমা পোলাও কেউ খাবে পান্থাভাত তা হয়না।হয়ে একি প্রতিষ্টানে সবাই আনন্দে বাঁচুক নয় নিরানন্দকে নিয়েই উপোস রচনা করুক। প্রাথমিক বিদ্যালযে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদটির কোন প্রয়োজন নেই। কেন বলছি সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাজ সিনিয়র সহকারী শিক্ষক দ্বারা অলরেডি চলছে। একটি প্রতিষ্টানে যদি ভিন্ন ভিন্ন ভেদাভেদ শুরু হয়ে তখনি শুরু হয়ে মনো কোন্দল।আরও মনো কোন্দল যেখানে বর্তমান সেখানে বাযোমেট্রিক হাজিরা এটা সেটা করে কি করবে। কোন লাভ হবেনা।
কোথায় পদোন্নতি নেই সরকারের সব সেক্টরেই পদোন্নতি আছে। প্রাথমিক শিক্ষাতেও পদোন্নতি চালু হলে বিরাট মনোবলের সৃষ্টি হবে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষাতেই বিশ বছর চাকরী করেও চলতি প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক হতে হতে কবরে যাওয়ার সময় হয়।নির্দিষ্ট সময় ও নিয়মাবলীর মাঝে যদি প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি শুরু হতো তাহলে সারা সেক্টরে কাজের মনোবল বৃদ্ধ পেত এমনকি ঘোড়াদৌড়ে বদলে যেতো প্রাথমিকের চেহারা।

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা হয় হয় বলে বলে চলে যাচ্ছে কয়েক বছর এখন আর কোন খোঁজ খবর নেই। বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার চেয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবী মেনে নেয়া হোক দেখবেন চেহারা বদলে গেছে।

প্রাথমিকে বেশ কয়েক বছর ধরে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা শিক্ষক হিসেবে যোগদান করছে কিন্তু বিধিবাম প্রাথমিক শিক্ষার ভাঙ্গাবস্থা দেখে অনেকেই সময় থাকতে পালিয়ে যাচ্ছে। নীতি কথায় পেট ভরেনা হয়তো ক্ষণিকের মনে ভরে। প্রাথমিকে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আপনারা শিক্ষকদের দিকে খেয়াল দিন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের দিকে খেয়াল দিবে। প্রাথমিক শিক্ষা হোক বৈষম্যবিহীন শিক্ষা যেখানে বৈষম্য নেই সেখানে উন্নতির দীক্ষা। [লেখক-আনিসুল হক লিখন, কবি ও গল্পকার]

সুনামগঞ্জ২৪.কম/ এএইচএল/ এমএআই

নিউজটি শেয়ার করুন

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™