মঙ্গলবার, ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং

দাখিল পরীক্ষা দিতে পারলো না ১৩ শিক্ষার্থী : মাদ্রাসা সুপারকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

খবরটি শেয়ার করুন

এম এ মোতালিব ভুইয়া :
দোয়ারাবাজারে ১৩ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষা দিতে না পারার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তদন্ত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন: উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন কুমার সানা ,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মেহের উল্ল্যাহ ও মুহিবুর রহমান মানিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সলিলেন্দু কুমার তালুকদার।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

প্রবেশপত্র না পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় শিক্ষার্থীরা বাদী হয়ে প্রতাবপুর সিদ্দিকীয়া আকবর (রাঃ) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিত পীরকে অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করলে তিনি এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

প্রসঙ্গত, ৩ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হওয়া দাখিল পরীক্ষায় দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের প্রতাবপুর সিদ্দিকীয়া আকবর (রাঃ) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিত পীর ও কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারনে এবার দাখিল পরীক্ষা দিতে পারছে না ১৩জন ছাত্র-ছাত্রী।

তারা হলেন, বেরী গ্রামের আলাউদ্দিনের পুত্র ইয়াহইয়া, মো. আব্দুল মালিকের পুত্র হাফিজ মোহাম্মদ লুকমান, মো. আরজক আলীর পুত্র মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, মোঃমাসুক আলীর পুত্র মোঃ ফয়েজ মিয়া, নিয়ামতপুর গ্রামের মৃত মঃআব্দুর রহিমের পুত্র মোঃ ছানোয়ার হুসেন, কাজি আব্দুল মুকিত (অত্র মাদ্রাসার সুপার) এর পুত্র কাজি সায়েম আহমদ, নতুন বেরী গ্রামের মাওলানা আবুল লেইছের মেয়ে মোছাঃ ছাদিয়া আক্তার, প্রতাবপুর গ্রামের কাজি ইকবাল হুসেনের মেয়ে মোছাঃ সাজিরা বেগম, চৌমুনা গ্রামের মকবুল মিয়ার মেয়ে সুলতানা বেগম, লকুছ মিয়ার মেয়ে খাদিজা বেগম, প্রতাবপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে মাহবুবা বেগম, প্রতাবপুর গ্রামের সামিয়ারা ও তানজিনা বেগম।

শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ থেকে জানাযায়, ফরম ফিলাপ এর টাকা জমা দিয়েও দোহালিয়া ইউনিয়নের প্রতাবপুর সিদ্দিকীয়া আকবর (রাঃ) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিত পীর ও কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারনে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ছাত্র- ছাত্রীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। শিক্ষাথীদের টাকা পয়সা জমা না দিয়ে আত্বসাৎ করার অভিযোগও করা হয়েছে মাদ্রাসা সুপার আব্দুল মুকিতের বিরুদ্ধে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোনিয়া সুলতানা বলেন, মাদ্রাসা সুপার আব্দুল মুকিতকে বহিস্কারের সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বিধি মোতাবেক সিদ্বান্ত বাস্থবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অন্য কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরিফুল ইসলাম সুনামগঞ্জ২৪.কম কে বলেন ‘ এই ঘটনার জন্য দায়ি কারা সেটা প্রমাণসহ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে, বিকল্প পদ্ধতিতে এই শিক্ষার্থীদের পরিক্ষা গ্রহণ করার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করবো’।

সুনামগঞ্জ২৪.কম/এমআর

খবরটি শেয়ার করুন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন