সোমবার, ১৬ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং

রঙ তুলির আচড়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজের ব্যবসাকে সাজিয়েছেন প্রাচী

খবরটি শেয়ার করুন

প্রিয়াঙ্কা কর, নিজস্ব প্রতিবেদক(নারীমঞ্চ)::

নন্দিনী কর্মকার প্রাচী। আর ১০টা মেয়ের মতোই লেখাপড়া আর ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে খুব ব্যাস্ত সে। সমাজের প্রচলিত নিয়মে বাধা তার জীবন গল্প। তবু একটু ভিন্নতায় সাজানো তার চারপাশ। ছোট অবসরকে রাঙিয়ে তোলায় মনোযোগি সে। রং তুলি আর আল্পনায় মনের মাধুরি মেশানো ছোট ছোট সৃষ্টি। এইসব নিয়ে আলাদা একটা জগতের মানবী সে। নারী হিসেবে ব্যক্তিগত একটা জগৎ নিজেই সাজিয়েছে সে। সুনামগঞ্জ শহরের প্রাচী এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ১০টা মেয়ের মধ্যেও আলাদাভাবে পরিচিত। লেখাপড়ার পাশাপাশি তার শৈল্পীক চিন্তা চেতনা তাকে পরিচিত করেছে সহপাঠি আর ক্যাম্পাসের অন্যদের কাছে অন্যরকমভাবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলোজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের বিএসএস সম্মান ২য় বর্ষের ছাত্রী প্রাচী। ২০১৯ সালের মে মাসের দিকে শখের বসেই রঙ তুলি হাতে নারীদের জন্য মৃৎশিল্পের গয়না তৈরীর কাজটা শুরু করে সে। নিজের জন্য কিছু গয়না বানানোর উদ্দেশ্যেই বাজার থেকে সামগ্রী কিনে আনা হয়েছিলো প্রথমে। ছোট বেলা থেকে টুক টাক আঁকার অভ্যাস ছিল তার। সেই সাহস থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গয়নাগুলোর ছবি শেয়ার করেছিলো প্রাচী। এরপর রঙ তুলিতে সাজানো প্রাচীর দারুণসব গয়না কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। সেখান থেকেই গল্পের শুরু।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

শখের কাজ থেকে যদি সামান্য কিছু হাতখরচ যোগাড় করা যায় তবে খারাপ কি!। যারা প্রথম ক্রেতা, তাদের অনুপ্রেরণাতেই ব্যবসার উদ্যোগ । একদমই ব্যস্ত না থাকলে একটা বানাতে একদিনের বেশি লাগে না প্রাচীর। তার হাতে বানানো প্রথম গয়না টা ছিল ওর বান্ধবীর কথা ভেবে বানানো একটা লকেট। যেটার নাম ছিল ‘সখী’। ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিলো সেটা। প্রাচীর নিজ হাতে তৈরী করা গয়নার সর্বনিম্ন দাম ৪০টাকা। আর সর্বোচ্চ ৩৮০ টাকা।

এগুলো মূলতো কাঠের গয়না এবং চাবির রিং। তবে এন্টিকসের বিভিন্ন গয়নাও তৈরী করছে সে। চট্টগ্রামের নিউমার্কেট থেকে মূলত উপকরণ সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে কাঠ, সুতা, রঙ, ছোট রিং আর অনেক আনুষঙ্গিক খুঁটিনাটি জিনিসপত্র লাগে। “অর্থনৈতিক উন্নতি তো অবশ্যই হচ্ছে ” বলে উল্লেখ করে সুনামগঞ্জ২৪.কম কে এই নারী উদ্যোক্তা বলেন‘ যেহেতু আমার এই ব্যবসা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা এবং আরও অন্যান্য ব্যস্ততা আছে তাই সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজটা করা হয় না, তবে সবকিছুর পরও যতটুকু লাভ হয় নিজের একটা ভালো হাতখরচ চলে আসে, তাই দৈনিক ইনকাম এতো সিরিয়াসলি কখনোই ভেবে দেখিনি”।

প্রাচীর হাতে তৈরী এসব গয়নার মোটামুটি কম বিনিয়োগে ভালো লাভ আছে। তবে পরিশ্রম আর সৃজনশীলতা প্রয়োজন অনেক। পাশাপাশি থিয়েটার এবং আবৃত্তি চর্চা করছে সে। লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রাচীর স্বপ্ন আপাততো নিজের পছন্দের জায়গাগুলোর জন্য নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবে তৈরী করা।

কাঠ আর রং তুলিতে সাজানো এসব গয়না তৈরীর উদ্যোগে সহযোগিতা করেছেন তার কাছ থেকে যারা এসব ক্রয় করেছেন শুরুর দিকে। তবে অনেকেই মনে করতেন বা এখনো করেন যে এই সামান্য আঁকা জিনিসগুলোর দাম এত বেশি কেন!। গয়না টা আকারে ছোট সেটা না দেখে জিনিসটা তৈরীর পেছনে কতটুকু দক্ষতা আর শ্রম দিতে হয় সেটাও বিবেচনা করে জিনিসটির মূল্যায়ন করার জন্য ক্রেতাদের আহবান জানিয়েছেন প্রাচী। তিনি বলেন “এটাই হয়ত হবে আমার জন্য সবচেয়ে বড় সহোযোগিতা”।

বেকারদের উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জ২৪.কম এর মাধ্যমে প্রাচী বলেছেন“ পৃথিবীতে আসলে অনেক কাজ পড়ে আছে আমাদের জন্য, শুধু নিজ নিজ দক্ষতা টা খুঁজে বের করে কাজে লাগাতে পারলেই হলো, আমার কোন দক্ষতা নেই এটি সম্পূর্ণই ভুল কথা। শুধু চর্চা আর চেষ্টা নেই বলেই হয়তো আমরা অনেক সময় নিজের দক্ষতা টা খুঁজে পাই না”।

নন্দিনী কর্মকার প্রাচী সুনামগঞ্জ শহরের মেয়ে। বর্তমানে পড়াশোনার জন্য চট্টগ্রামে তিনি অবস্থান করছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোট অবসর কে কাজে লাগাতে তার এই ব্যাবসায় উদ্যোগের শুরুটা ভালোই ছিল। এমন একটা কাজের সাথে নিজেকে জড়াতে পারার সৌভাগ্যটা হয়ত সবার অনুপ্রেরণা না পেলে তিনি জানতেন না। এমনটিই নারীমঞ্চ কে জানিয়েছেন প্রাচী। আত্মপ্রত্যয়ি এই নারীর জন্য শুভ কামনা।

সুনামগঞ্জ২৪.কম/ পিকেপি/ এমএআই

খবরটি শেয়ার করুন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন