বৃহস্পতিবার, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং

বিদেশ থেকে ফিরে সুনামগঞ্জে এসেছেন ২হাজার ২৮৮জন, ঘুরছেন জনবহুল স্থানে

খবরটি শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিবেদক::
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিভিন্ন দেশ থেকে এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জে এসেছেন ২হাজার ২৮৮জন প্রবাসী। হঠাৎ করেই তারা দেশে ফিরে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা মানছেন না। উল্টো গত কয়েকদিনে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল, বিয়ের অনুষ্ঠানে এবং বিভিন্ন মসজিদ ও আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছেন তারা। প্রকাশ্যেই বাজারে জনবহুল এলাকাগুলোতে ঘুরছেন তারা। পরিচিতদের সংস্পর্শে যাচ্ছেন এসব প্রবাসী।িএমন অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। দন্ডবিধির নিদৃষ্ট ধারা অনুযায়ি প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করে তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ সভায় তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ি ইদানিং করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে ফিরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসেছেন ৪৩৯জন। পাশাপাশি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় এসেছেন৫৩জন। জেলার ছাতকে এসেছেন ৫৮৭জন। দোয়ারাবাজারে ফিরেছেন ২১৬জন। জগন্নাথপুরের বিভিন্ন এলাকায় এসেছেন ৫১২জন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জে এসেছেন ২৫জন। জেলার দিরাই উপজেলায় বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন ১৭৯জন। শাল্লায় এসেছেন ২১জন। তাহিরপুরে এসেছেন ৪৪জন। এছাড়াও জামালগঞ্জে বিদেশ থেকে ফিরেছেন ৭৯জন। ধর্মপাশায় এসেছেন ৫৫জন। মধ্যনগরে এসেছেন ১৩জন। এছাড়াও এই জেলায় বাহিরের জেলার বিদেশী ব্যাক্তি এসেছেন আরও ৬৫জন। সব মিলিয়ে ২হাজার ২৮৮জন ব্যাক্তি সুনামগঞ্জে ছড়িয়ে পরেছেন বিভিন্ন এলাকায়। এদের মাধ্যমে এই জেলায় করোনা ভাইরাস দ্রুত সংক্রমণ হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

কিন্তু এইসকল ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হলেও নির্দেশনা অমান্য করে এলাকার বিভিন্ন বাজারে এবং আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছেন তারা। এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানেও দেখা মিলছে এসব বিদেশ ফেরত ব্যাক্তিদেরকে। জনবহুল এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও হোটেল – রেস্টুরেন্টে যাচ্ছেন তারা। এমনকি নিজ বাড়িতেও আলাদা ঘরে থাকার কথা বলা হলেও প্রতিবার স্বজনদের সঙ্গে বসে খাবারও গ্রহণ করছেন এসব বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা। এতে পরিবারের অন্যদের মধ্যেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পরতে পারে। এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে। প্রথম ১৪ দিন অব্দি যেহেতু এই ভাইরাসের লক্ষণ ধরা পরবে না সে কারণে অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন কি না সেটা বুঝতে পারবেন না। এতে প্রত্যেকেই মনে করবেন নিজেরা সুস্থ্য আছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ সুনামগঞ্জ২৪.কম কে বলেন‘ বিদেশ ফেরত এসব ব্যক্তিদের যে করোনা ভাইরাস আছে সেটা কিন্তু নিশ্চিত না, কোয়ারেন্টিনে থাকা মানেই যে তারা রোগী এমনও কিন্তু না, বরং কোয়ারেন্টিনে থেকে তাদের পরিক্ষা নিরিক্ষা শেষ করতে হবে, এর আগেই যদি কেউ এলাকায় ঘুরে বেড়ান বা বিয়ে বাড়ি, আত্মীয়ের বাড়ি বা বাজারে রেস্টুরেন্টে যান তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে, আইন প্রয়োগ করে হলেও তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যাবস্থা করতে হবে, তারা নিজেরাই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন যদি তারা নির্দেশনা না মানেন, আমরা তাদের নিয়ে সত্যিই চিন্তিত কেননা জনবহুল এলাকায় তাদের ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ আমরা পাচ্ছি, আমি সকলকে অনুরোধ করবো তাদেরকে কেউ কোয়ারেন্টিন না মানতে দেখলে থানায় অথবা উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করুন, আমরা কঠোর ব্যাবস্থা নেবো’।

সুনামগঞ্জ২৪.কম/ এমএআই

খবরটি শেয়ার করুন:

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন