বৃহস্পতিবার, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং

বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে

খবরটি শেয়ার করুন:

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের আলোচনা সর্বত্রই। এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে করণীয় বিষয়ে সরকার ও প্রশাসন দিনরাত প্রচারণা দেয়ার পাশাপাশি দেশের জনগনকে সতর্ক করছে। চিকিৎসকেরাও দুঃশ্চিন্তায় সময় পার করছেন। ইতিমধ্যেই দেশে ১৭জন আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসে। গত কিছুদিন ধরেই আইইডিসিআর করোণা মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানালেও বাস্তবঅর্থে করোণা আক্রান্ত দেশগুলো থেকে অবাধে প্রবাসীদের দেশে ঢুকতে দেয়া হয়েছে। বছরে আর কোন সময়েই এতো সংখ্যক প্রবাসীরা একযোগে দেশে আসেন না। করোণা মোকাবেলায় পরিকল্পনার এমন যাচ্ছেতাই অবস্থা হতবাত করেছে দেশের নাগরিকদের। আক্রান্ত দেশ থেকে এভাবে প্রবাসীদের দেশে ঢুকতে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন অনেকেই।

সুনামগঞ্জেও এ পর্যন্ত আক্রান্ত দেশগুলো থেকে এসেছেন ২হাজার ২৮৮জন প্রবাসী। এরা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলা হলেও ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিজেদের ইচ্ছেমতো। বর্তমানে তাই এই ভাইরাস আতঙ্ক সময় যতো যাচ্ছে বেড়ে চলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার সকল স্থানে সব ধরণের সভা সমাবেশ, ওয়াজ মাহফিলসহ ধর্মীয় ও সামাজিক সকল অনুষ্ঠান আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই সুযোগ কে লুফে নিয়ে ফায়দা হাসিলের পরিকল্পনায় মেতে উঠেছেন সুনামগঞ্জের বাজারগুলোর কিছু অসাদু ব্যাবসায়ি চক্র। গুজব ছড়িয়ে বাজারে ভোগ্য পন্যের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত লাভের চিন্তা করছেন তারা।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

১৮মার্চ(বুধবার) সুনামগঞ্জ২৪.কম এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। “ সুনামগঞ্জে গুজব ছড়িয়ে ৩৫টাকা কেজীর পেয়াজ রাতে ৭০টাকায় বিক্রীর অভিযোগ” শিরোনামে এই প্রতিবেদনে বাজারের অবস্থা তোলে ধরেন প্রতিবেদক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করাহয় “করোনা ভাইরাসের কারণে বাজারে প্রভাব দেখা দিচ্ছে গুজব ছড়িয়ে সুনামগঞ্জের বাজারে পেয়াজের দাম আকস্মিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে এক শ্রেণীর অসাদু ব্যাবসায়িরা। গত ১২ ঘন্টায় পেয়াজের কেজী ৩৫টাকা থেকে বেড়ে ৭০টাকায় দাড়িয়েছে বলে আলোচনা চলছে জেলা শহরের সর্বমহলে। এই আলোচনা পৌছে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। অনেকেই এই দরে পেয়াজ কিনছেন অনেকটা তড়িঘরি করেই। তবে এই দর বৃদ্ধির ঘটনার কিছুই জানেন না বলে সুনামগঞ্জ২৪.কম কে জানিয়েছেন বাজার ব্যবসায়ি সমিতির নেতারা।’

বাজারে পেয়াজ এর নির্ধারিত দাম আকস্মিকভাবেই বেড়ে যাওয়ার খবর জানতে পেরে জেলা প্রশাসনও তাই বৃহস্পতিবার(১৯মার্চ) সকালে জেলা শহরের ব্যবসায়ি ও বাজার মনিটিরিং টিমের সদস্যদেরকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জরুরী সভার আয়োজন করে। এসময় সকল ব্যবসায়িদেরকে অযথাই পণ্যের দাম না বাড়াতে আহবান জানায় জেলা প্রশাসন। এক্ষেত্রে বাজার মনিটরিং টিমকে আরও কঠোরভাবে নজরদারির ব্যাবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়াহয়। তবে ব্যাবসায়িরা জানান ‘নতুন চালান আনতে পেয়াজের দাম বেশি দিতে হচ্ছে তাদের। তাই বাধ্য হয়েই দাম বাড়াচ্ছেন তারা।’

প্রতিবেদনে বাজারের অবস্থা তোলে ধরে প্রতিবেদক প্রশাসনের নজর কেড়েছেন। বাজারে কতিপয় ব্যাবসায়িরা দলবদ্ধভাবেই সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত লাভের অতিমাত্রায় আশা করে অপরাধ সংঘঠিত করে থাকেন। এই অবস্থা কেবল বাংলাদেশেই হয়ে থাকে বলে মনেহয়। রমজান মাসেও আমরা এই চিত্র নিয়মিত দেখে আসছি। যতোবার দেশের বিপর্যয় ততোবার এক শ্রেণীর ব্যাবসায়ি রক্তচোষা জোঁকের মতো নিজেদের স্বার্থ্য হাসিলে ব্যস্ত হয়ে পরেন। কয়েকগুন বেশী লাভ করেও দায় চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা থাকে সরকারের উপরেই। বলাহয় ‘আমদানি হচ্ছেনা’। নাহয় প্রচার দেয়াহয় ‘পণ্যের মজুদ শেষ’। ভোক্তাদের সঙ্গে চরম মাত্রায় প্রতারণা করেও নিজেদেরকে অপরাধী মনে করেন না এসব সিন্ডিকেটের ‘রুই- কাৎলারা’। বরং মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করাহলে দলবদ্ধ হয়ে আইনভঙ্গ করাহয়। হামলা করাহয় ম্যজিস্ট্রেটদের উপর।

অন্যায়কে তারা নিয়মে পরিনত করতেই মরিয়া। এইসব অতি লোভী চক্রের হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোরতর শাস্তির ব্যববস্থা গ্রহণ করা জরুরী। প্রশাসনকে আরও কঠোর ভুমিকা পালন করতে হবে। অন্যায় কে যারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা প্রয়োজন। ভোক্তাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা খতিয়ে দেখে আইন প্রয়োগ করতে হবে কঠোরভাবেই। দৃষ্টান্ত এমন হতে হবে যেনো দেশের এবং দেশের আপামর মানুষের দুঃসময়ে এরা আর কখনো অযথাই ভোগ্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়ার সাহস না করতে পারে। ওইসব কতিপয় ব্যাবসায়িদের আরও মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ হতে হবে।

ভালো ব্যাবসায়ি এবং অতিলোভী ব্যাবসায়িদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। যারা ব্যাবসাকে হালাল উপার্জনের মাধ্যম মনে করেন তারা কখনোই ক্রেতাদেরকে এভাবে ঠকানোর চেষ্টায় মত্ত থাকেন না। তাদেরকে পুরস্কৃত করা উচিৎ। মানুষের দুঃসময়ে ব্যাবসায় থেকেও মানুষের উপকার করা যায়। পণ্যের দাম কমাতে না পারলে অন্ততো ক্রয় করা দামেও বিক্রী করে মানুষের পাশে থাকা যায়। সেটাও সম্ভব না হলে অন্ততো বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কম লাভ করা যেতে পারে। কিন্তু সুনামগঞ্জের বাজারে করোণা ভাইরাসের গুজব ছড়িয়ে ২থেকে ৩গুন লাভে পণ্য বিক্রী করা ক্রেতাদের উপর জুলুম হিসেবেই বিবেচিত হয়। এই অন্যয়ের বিচার দাবি করাও নাগরিকদের অধিকারের মধ্যেই পরে। আশা করবো কেবল করোণা ভাইরাসের আতঙ্ককালীন সময়ে নয় বরং দেশের সকল দুঃসময়ে মানবিক বোধ সম্পন্ন ব্যাবসায়িরাই বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভুমিকা নেবেন।– মো. আমিনুল ইসলাম।

খবরটি শেয়ার করুন:

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন