রবিবার, ১৫ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৯শে মার্চ, ২০২০ ইং

চালের দাম বাড়েনি: গুজবে বিশ্বাসী ক্রেতাদের দৌড় ঝাপ বেড়েছে

খবরটি শেয়ার করুন

মনোয়ার চৌধুরী::
হঠাৎ করেই বাজারে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ভোগ্য পন্য কেনা শুরু করেছেন ক্রেতারা। এ অবস্থা দেখে অনেকটাই অবাক হচ্ছেন দোকানীরা। অবস্থা এমন যে দোকানীদের কাছে ক্রেতারা এখন হাসির খোরাক। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরেও চালের বাজারে গতকাল রাতে হুমরি খেয়ে পরেছিলেন কয়েক’শ গুজবে বিশ্বাসী ক্রেতা। সুনামগঞ্জ জেলা শহরের বাজারগুলো ঘুরে বিভিন্ন গোদাম ও চালের দোকানে পর্যাপ্ত চালের মজুদ থাকার খবর তোলে এনেছেন এ প্রতিবেদক। সুনামগঞ্জ২৪.কম কে চাল বিক্রেতারা জানিয়েছেন ক্রেতাদের মধ্যে অযথাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশী কেনার আগ্রহ তৈরী হয়েছে। এতে তারা নিজেরাই বাজার পরিস্থিতি খারাপ করতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

গত ২দিনে বাজারে হুমরি খেয়ে পরে অতিরিক্ত কয়েক বস্তা করে চাল কেনার পরেও প্রত্যেকের দোকান ও গোদামে পর্যাপ্ত চালের মজুদ রয়ে গেছে বলেই উল্লেখ করেছেন বিক্রেতারা। তাদের মতে আগামী আরও ১মাস প্রত্যেক দোকানীর গোদামে থাকা চাল শেষ হবেনা। তবে ক্রেতাদের এমন অবস্থা দেখে কিছু কিছু অতিলোভী দোকানী ভালো মানের চিকন চালে কেজীতে ১টাকা বেশী নিয়েছে।

শুক্রবার(২০ মার্চ) দুপুরে জেলা শহরের নতুন বাজার, সুরমা হকার্স সমবায় মার্কেট ও পুরাতন জেল রোড এলাকার চালের বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে এই তথ্য জানাগেছে। মেসার্স মালতি ট্রেডার্সের ব্যাবসায়ি মিঠু দাশ সুনামগঞ্জ২৪.কম কে বলেন‘ আগামী ১মাসেও দোকান এবং গোদামে থাকা চাল শেষ হচ্ছেনা, চালের দামও বাড়েনি একটুও, কিন্তু হঠাৎ করেই গুজব পাগল ক্রেতারা দলবেধে দোকানে এসে চাল কেনা শুরু করেছেন, যাদের দরকার ৫০ কেজী তিনি কিনলেন ২বস্তা, ব্যাপারটা মজাও লাগে আবার তাদের জন্য দুঃখও লাগে, নিজেরাই বাজারের ১২টা বাজাতে চায়, কিন্তু গত ২দিন বিক্রীর পরেও আমার দোকানের চাল কমেনি, কেজীতে টাকাও বাড়েনি, আগের দামেই বিক্রী করছি, বরং যারা কিনলেন তারা আরও ঠকলেন, কারণ চালের দাম আরও কমবে’।

বাজারের শাহ জালাল চাউলের আড়তের ব্যাবসায়ি মো. শহিদুল সুনামগঞ্জ২৪.কম কে বলেন‘ ক্রেতাদের এই অবস্থা দেখে অবাক লাগে, গুজবে বিশ্বাস করে তারা দৌড়ে বাজারে চলে আসে, অযথাই বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে চায়, কিন্তু আমার দোকানে চালের দাম বাড়েনি, বাজারে চালের দাম বাড়বেও না, আমাদের সবার কাছেই আগামী ১-২ মাসের চাল গোদামে রাখা আছে, ক্রেতাদের কেনা দেখে কিছু লোভী ব্যাবসায়ি চিকন চালের দাম কেজীতে ১টাকা বাড়িয়ে রেখেছে’।

বাজারে শুক্রবার আতপ চাল(২৮) বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজী ৩৮টাকায়, মিনিকেট ৪২ টাকা কেজী, পাইজং আতপ চাল প্রতি কেজী ৩৫ টাকা এবং মোটা আতপ ৩০টাকা, বিরুই আতপ ৩২টাকা, টেপি ৪৫ টাকা, নাজিরসাইল ৫৪, মালা- ৩৭টাকা, বাজারে সবচেয়ে দামি চাউল কালিজিরা(পোলাও) ৭০টাকা ও চিনিগুড়া(পোলাও) ৯৫টাকা কেজী বিক্রী হয়েছে।

বাজারে ভোগ্য পণ্যের দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যেই থাকবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ সুনামগঞ্জ২৪.কম কে বলেন‘ বাজার মনিটরিং টিমের সঙ্গে আলোচনায় আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি কোনভাবেই ভোগ্য পণ্যের দাম কারসাজি করে কেউ যাতে বাড়াতে না পারে সেদিকে কঠোর নজরদারি থাকতে হবে, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে কেউ অতিরিক্ত লাভ করছেন তাহলে আইনের প্রয়োগ করা হবে, জেলার সকল উপজেলা ও জেলা শহরের সকল বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার জন্য বলে দেয়া হয়েছে, বাজার যাতে অস্থিতিশিল না হয় সেজন্য ব্যাবসায়ি নেতারাও খুচরা ব্যাবসাািয়দেরকে সাবধান করে দিয়েছেন আলোচনায়’।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

সুনামগঞ্জ২৪.কম/ এমসি/ এমএআই

খবরটি শেয়ার করুন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন