রবিবার, ১৫ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৯শে মার্চ, ২০২০ ইং

করোনা ভাইরাস : বাজারে বেড়েছে মাস্কের চাহিদা, বাড়ছে নাগরিক সচেতনতা

খবরটি শেয়ার করুন

আশিস রহমান ::

নোভেল করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে শুরুর দিকে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সুনামগঞ্জেও তেমন কোন প্রস্তুতির তাগিদ লক্ষা করা যায়নি নাগরিকদের মধ্যে। তবে সময় যতো যাচ্ছে দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বাড়ছে ভয়। সর্বশেষ শনিবার অব্দি দেশে ২জনের মৃত্যু হওয়ায় অনেকেই এখন চিন্তিত হয়ে পরেছেন। তাই  স্থানীয় বাজারগুলোতেও এখন বেড়েছে মাস্কের চাহিদা।

প্রভাব পরেছে উপজেলা গুলোর ছোট ছোট বাজারেও। ক্রেতাদের চাহিদা অনুপাতে জেলা শহরের সবকয়টি মার্কেটে ব্যাবসায়িদের মতে স্বাভাবিক মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে মাস্ক। তবে ক্রেতারা বলছেন মাস্কের কোয়ালিটি অনুযায়ি দাম টা বেশীই রাখা হচ্ছে। শনিবার সরেজমিন পর্যবেক্ষন করে সুনামগঞ্জ২৪.কম প্রতিবেদক  একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতার সক্ষে কথা বলেন। এসময়   জানা যায়, গত  কয়েকদিন ধরে মাস্কের দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা  চোখে পড়ার মতেই বাড়ছে। প্রথম দিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে মাস্কের বাজার মূল্য ৪ থেকে ৫গুন বেড়ে যাওয়ায়  সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পরেছেন। অনেকে মাস্ক দোকানে লুকিয়ে রেখেও বলেছেন স্টক শেষ। এতে পরে দামে বিক্রি করার পরিকল্পনা সাজিয়েছেন অনেকেই।

তবে প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি  এবং শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এখন অতোটা অস্বাভাবিক মূল্যে কেউ বিক্রী করতে পারছেননা। বাজারের প্রায় সবকয়টি মাস্কের দোকানে এখন সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা দামের তিন ধরণের মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

জেলা শহরের আলফাত স্কয়ার, পূর্ব বাজার মসজিদ মার্কেট,  সুরমা হকার্স মবায় মার্কেট,  মধ্য বাজার, পশ্চিম বাজার,  পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকাসহ শহরের প্রধান সড়কের পাশের সকল ভ্রাম্যমাণ দোকানে মাস্ক ক্রেতাদের নজর কাড়ছে ।  ট্রাফিক পয়েন্টের ব্যবসায়ী আলী হায়দার,  আলী হোসেন,  রফিক মিয়া,  জহির মিয়া সুনামগঞ্জ২৪.কম প্রতিবেদককে জানান, ‘মাস্কের বিক্রি এখন মোটামুটি ভালো চলছে। প্রথম দিকে ব্যাপক চাহিদা ছিল।’

মধ্যবাজারের ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, ‘সকল শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতিদিন মাস্ক ক্রয় করছেন, ক্রেতাদের মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ এবং পেশাজীবী মানুষ।’

পুরাতন বাস স্ট্যান্ডের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, ‘সর্বোচ্চ মূল্যের মাস্ক পাইকারি ৩৫ টাকা দামে ক্রয় করে খুচরা মূল্যে ৪০ টাকা দামে বিক্রি করছি। এখানে আমাদের মাস্ক প্রতি লাভ হয় ৫ টাকা। একই মাস্ক প্রথম দিকে  প্রতি পিস ৫০থেকে ৭০ টাকায়  বিক্রি করা হতো।

বাজারে এখন ক্রেতাদের চাহিদার অনুপাতে পর্যাপ্ত মাস্ক রয়েছে। মাস্ক ক্রয় করতে আসা শিক্ষার্থী যুবায়ের মাহমুদ পাবেল সুনামগঞ্জ২৪.কম কে বলেন, ‘স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্যই নিজের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য মাস্ক ক্রয় করেছি। বাজারের সকল দোকানে একই দামে মাস্ক বিক্রি হচ্ছে।’

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, করোনা ভাইরাসের প্রভাবেই হঠাৎ করে বেড়েছে মাস্কের চাহিদা। এর আগে শহরে তেমন মাস্ক ক্রয় বিক্রয় করতে দেখা যায়নি। এখন প্রায় সবাই মাস্ক ব্যবহার শুরু করেছেন। অনেকে আবার বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে এসব মাস্ক বিনামুল্যে বিতরণ করছেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া রোধে সচেতনতা বাড়ছে স্থানীয় পর্যায়ে। এটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার সুধিমহল।

 

সুনামগঞ্জ২৪.কম/ এআর/ এমএআই

খবরটি শেয়ার করুন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন