মঙ্গলবার, ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং

জনসমাগম ও অসচেতনদের বিচরন বন্ধ করতে আইন প্রয়োগ জরুরী

খবরটি শেয়ার করুন

নোভেল করোনা ভাইরাসকে বাংলাদেশে প্রথম দিকে কেউই ততোটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি বরং হাস্যরস নিয়েই কথা বলেছেন দেশের দায়িত্বশীল ব্যাক্তিরাও। অনেকে আবার এমন সব বক্তব্য দিয়েছেন যা এখনো নাগরিকদের কাছে বহুলভাবে সমালোচিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। এসব বক্তব্য দিয়ে কর্তারা হয়েছেন নাগরিকদের কাছে হাসির খোরাক। এই মহামারি নিয়ে কতিপয়রা সঙ্গীত রচনা করেও আনন্দ নিয়েছেন বাংলাদেশে। তারাও হয়েছেন সমালোচিত । এর মাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে বাংলাদেশী হিসেবে আমরা কতোটা নির্বোধ। পৃথিবীর অর্থনৈতিকভাবে এবং চিকিৎসা সেবায় উন্নত দেশগুলো যখন করোনা মহামারির কাছে অসহায় হয়ে পরেছে সেখানে দফায় দফায় ‘বাংলাদেশের প্রস্তুত থাকার’ প্রচারণাই কেবল দিয়ে গেছেন কিছু দায়িত্বশীলরা। বাস্তব অর্থে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের জন্যেই নেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক উপকরণের যথেষ্ঠ সরবরাহ। গতকিছুদিনে চিকিৎসকদের দেয়া বক্তব্যে আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি।

এমন অবস্থায় জনবহুল এই দেশের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচরে বসতে হয়েছে তখনই যখন একের পর এক মৃত্যু নিশ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশেও। যদিও বিদেশ ফেরতদের এয়ারপোর্ট থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নেয়া জরুরী ছিলো শুরুর দিক থেকেই, তা না করে হোম কোয়ারেন্টিনের কথা বলে দেয়া হয়েছে দায়সারাভাবে। এই দেশে আইন ভঙ্গ করে জন্ম থেকে চলা কিছু মানুষের স্বভাবজনিত সমস্যার কাছে এই নির্দেশ কিছুই নয়। তাই যা হবার তা ই হয়েছে। এদের একদল কোয়ারেন্টিন তো দুরের কথা বাসায় ই থাকেননি দিনের অধিকাংশ সময়।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

উল্টো যোগ দিয়েছেন স্থানীয় বেশিরভাগ অনুষ্ঠান, সভা- সেমিনার ও বিয়ের উৎসবের আয়োজনগুলোতে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ভয় থেকেই সরকার দেশের কিছু এলাকা লকডাউন করে দেয়ার পাশাপাশি সকল ধরণের সভা ও অনুষ্ঠানসহ সকল অঞ্চলের শপিং সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি ৪এপ্রিল অব্দি দেশের সকল সরকারি অফিস বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনার সঙ্গে সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সুনামগঞ্জসহ বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চলেই মানুষের আইন লঙ্ঘন করার মানসিকতা প্রবল থাকায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার প্রতি কারোরই খুব একটা খেয়াল নেই বললেই চলে। জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই বাজারগুলোতে মানুষের ভীড় লেগেই আছে, বিশেষ করে বিদেশ ফেরৎ ব্যক্তিরা তো নিজেদের আধিপত্য দেখিয়েই বাজারের জনসমাগম স্থানে খোশগল্প করে সময় পার করছেন। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। ভাইরাস ছড়িয়ে পরার শঙ্কায় সুনামগঞ্জসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে বাড়িতে অবস্থানের কথা বলে দেয়া হলেও এই সুযোগ কে উৎসবে রুপ দিয়ে পর্যটন স্পটগুলোতেও ছুটে গিয়েছেন অনেকেই। সরকার তাই বাধ্য হয়েই দেশের সকল পর্যটন স্পটগুলোতেও সমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

সরকারি এসব নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই এখনো সুনামগঞ্জসহ দেশের প্রায় সকল অঞ্চলেই ইচ্ছেখুশি চলাচল করছেন নাগরিকরা। যাদের স্বভাবসূলভ আচরণে এই ভাইরাস তাদের কাছে তেমন কিছুই নয় বলেই প্রকাশ পাচ্ছে। যদিও আক্রান্ত হলেই সব দায় এরা সরকারের দিকেই ঠেলে দিতে মরিয়া ভুমিকা পালন করবে। বিদেশ ফেরত ব্যাক্তিরা সবাই যে রোগী তা কিন্তু নয় কিন্তু ১৪ দিনের আগে উপসর্গ দেখা না দেয়ার কারণে যিনি রোগী তিনিও অনুমান করতে পারবেন না ভাইরাসে আক্রান্ত তিনি। তাই নিজেদের ইচ্ছেমতো চলাচল বন্ধ করতে হবে এসব প্রবাসীদের। তাদের কয়েকজন নিজেদের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার চিন্তা নেই বলে প্রচার করলেও তাদেরকে গৃহবন্দি করে রাখতে হবে। যেখানে নির্দেশনায় কাজ নাহয় সেখানে আইনের প্রয়োগ করা জরুরী। কারণ একজনের জন্য আরও ১০জনকে আমরা নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারিনা।

কতিপয় বাংলাদেশীদের জন্য অবশ্যই সরকার এবং প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। যারা আইনের লঙ্ঘন করতেই মরিয়া তাদের প্রয়োজনে দন্ড প্রদান করতে হবে। যদি গণপরিবহন চালু রাখতেই হয় তাহলে এগুলোর মালিকদের পক্ষ থেকে সকল যাত্রীদের জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা উপকরণ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সারা দেশের মানুষের জন্য নিরাপত্তা উপকরণ ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর পর্যাপ্ত যোগান নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে চলা সকল বিকৃত মানসিকতার নাগরিকদের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। অবস্থা যদিও এখনো অন্য দেশগুলোর মতো ভয়াবহ নয় তবুও খারাপ পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অল্প আয়ের মানুষের জন্য জীবন ধারণ যেনো কষ্টসাধ্য না হয়ে পরে সেদিকে খেয়াল রেখে অবশ্যই পরিকল্পনা গহণ করতে হবে প্রশাসনিক কর্তাদের। সচেতনতা তৈরীর নামে দলবদ্ধ হয়ে মাস্ক ও অন্যান্য নিরাপত্তা উপকরণ বিতরণ কর্মসূচি আয়োজনকারিদেরও নিজেদের নিরাপদ রাখার কথা মাথায় রাখা উচিৎ। দলবদ্ধ না হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করা যেতে পারে। কেননা সংক্রমণ কতোটা ভয়াবহ আকার নিতে পারে তা ইতালিকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিৎ। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আমাদের রক্ষা না করলে এই মহামারি বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও অসচেতনতায় ডুবে থাকা মানুষদের দেশে কতোটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে সেটি অনুমেয়। তাই অসচেতন মানুষদের অযথাই সমাগমমুখীতা বন্ধে আইনের প্রয়োগ জরুরী। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন কে অবশ্যই এ ব্যাপারে ভুমিকা নিতে হবে। আশা করছি সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বীত কার্যক্রম নাগরিকদের প্রতি সরকারের সকল প্রকার নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভুমিকা রাখবে।– মো. আমিনুল ইসলাম।

খবরটি শেয়ার করুন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন