সোমবার, ১৬ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং

মাঠপর্যায়ে কাজ করা কর্মীদের সবার আগে পিপিই সরবরাহ করতে হবে

খবরটি শেয়ার করুন

দেশের সাধারণ মানুষের কথাই সবার আগে ভাবতে হবে সরকারকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যেসব কর্মযজ্ঞ নিয়ে কথা বলাহচ্ছে তাতে করোনা ভাইরাসের মোকাবেলায় ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। এখনো দেশের সকল হাসপাতালে পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট)সরবরাহ করা খুব একজা জরুরী মনে করছেননা মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্তা ব্যাক্তি। খোদ মন্ত্রীও পিপিই সরবরাহের বিষয়ে তেমন জোড়ালো পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়ার পক্ষে নন বলেই তার বক্তব্যে প্রমাণিত হচ্ছে। তবুও মন্ত্রী বলছেন বাংলাদেশ প্রস্তুত। তবে বাস্তব অর্থে মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করবেন তাদের নিরাপত্তাই এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। এখনো দেশের সকল হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজন অনুসারে পিপিই সরবরাহ করা হয়নি।

সবার আগে পিপিই সরবরাহ করতে হবে চিকিৎসক ও আইন শৃংখ্যলা বাহিনীর সদস্যদেরকে। বিশেষ করে পুলিশ ও সেনা বাহীনির সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের নিরাপত্তা উপকরণ সবার আগে প্রয়োজন। দেশে প্রচলিত ভিআইপিদের সেবা সবার আগে নিশ্চিত করার প্রবনতা এই ক্ষেত্রে বদলাতে হবে। কেননা ভিআইপিরা খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে বেরুতে হয়না। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে তারা সচ্ছল থাকায় নিরাপত্তা উপকরণের আংশিক হলেও তারা নিজেরাই কিনতে পারছেন। কিন্তু দেশের শ্রমজীবি ও অল্প আয়ের মানুষেরা যেভাবে খুক একটা সচেতন না তেমনি এসব কেনার জন্য নেই অর্থনৈতিক তেমন সচ্ছলতা।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে সবার আগে সাধারণ মানুষ এবং এসব সাধারণ মানুষের খুব কাছে থেকে সেবা দানকারি বিভাগের কর্মীদের পিপিই সরবরাহ করার কথাই ভাবতে হবে। সময়ের অপচয় না করে দ্রুত এবং আরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশ বিভাগ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন এবং করবেন তাদেরকে পিপিই সরবরাহ করতে হবে।

এই সময়ে দেশের সকল ঋণদানকারি প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকদের কাছথেকে অর্থ আদায় করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিতে হবে। এটা আপাততো কয়েক মাসের জন্য বন্ধ রাখা জরুরী। কেননা অল্প আয়ের মানুষেরা এই সময়ে তাদের ভিন্ন ভিন্ন কর্মস্থল থেকে মাসিক বেতন নাও পেতে পারেন। আবার অনেকেই যারা শ্রমিকের কাজ করেন তারা কাজ নাও পেতে পারেন। তাই ঋণ নিয়ে এই সময়ে টাকা পরিশোধ না করতে পারায় তাদেরকে বিপাকে পরতে হতে পারে।

জেলা পর্যায়ে এবং উপজেলা পর্যায়ে রোগের উপসর্গ দেখা দেয়ার পর দ্রুততম সময়ে পরিক্ষা করার ব্যাবস্থা করে দিতে হবে। এই সেবা পর্যাপ্ত নয় এখনো। বরং যখন বহুলভাবে এসব উপসর্গ দেখা দিতে থাকবে তখন এই সেবা না দিতে পারায় সরকারকে নাজেহাল অবস্থায় পরতে হতে পারে। তাই অনাগত দিনগুলোর কথা এখন থেকেই ভেবে আরও দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। দেশের শ্রমজীবী ও অল্প আয়ের সকল মানুষকে আরও বেশী সচেতন করে তোলা এখনই জরুরী। নয়তো ভয়াবহ দিনগুলো বাংলাদেশকে দেখতে হতে পারে।

দেশের বাজারে সাবান ও স্যানিটাইজার এর দাম আরও কমিয়ে আনতে এখনই নির্দেশ দিতে হবে। প্রয়োজনে এসব উৎপাদন ও আমদানীকারকদের আগামী একমাস পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে। সারা দেশে সরকারের পক্ষ থেকে জীবানুনাশক ছিটিয়ে দেয়ার ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের এই উদ্যোগে দেশের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অংশ নিতে বাধ্য করতে হবে। সমন্বিতভাবে কাজের মধ্য দিয়ে দুঃসময়ে বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। – মো. আমিনুল ইসলাম।

খবরটি শেয়ার করুন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন