সোমবার, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং

প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা একই এলাকায় না দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে শ্রমজীবিদের ঘরে পৌছে দিন

খবরটি শেয়ার করুন:

দেশের সকল দু:সময়ে সরকার প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্যা শেখ হাসিনা যথাযথ সিন্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংকট মোকাবেলা করে নজির স্থাপন করে চলেছেন। অতিতে বিশ্বের প্রায় সকল উন্নত দেশ যখন মন্দার প্রভাবে মারাত্নকভাবে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কিছু গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে এই ক্ষতির বাইরে রেখেছে। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে মারাত্বক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হতে পারে বাংলাদেশ। তাই বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের সকল এলাকায় নাগরিকদেরকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সকল মার্কেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল সরকারি অফিস ও গণপরিবহনসহ জনসমাগম হয় এমন সব স্পট। যদিও এখনো প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনা না মেনে অসচেতনভাবে বিভিন্ন এলাকায় ঘর থেকে অপ্রয়োজনেও বের হচ্ছেন অনেক সাধারণ মানুষ। যেটা কাম্য নয়। তাদেরকে আইন প্রয়োগ করে হলেও ঘরে রাখার ব্যাবস্থা করতে নির্দেশনা রয়েছে সরকারের।

করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী এই দৃ:সময়ে ভুলে যাননি দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবি মানুষের কথা। তাদের প্রত্যেকের কাছে খাবার পৌছে দিতে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এই কাজে সকল উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের ও তৃণমুল পর্যায়েরও সকল জনপ্রতিনিধিদেরকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বিতরণকার্য যথাযথ করতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি খাদ্য সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি সকল সম্পদশালীদেরকেও ব্যাক্তিগতভাবে অসহায় মানুষদের পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেয়া এই খাদ্য সহায়তার যথাযথ বন্টন হচ্ছেনা বলে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগ উঠে আসছে। সাধারণ মানুষদের মতে শহর অব্দিই এই কাজ দায়সারাভাবে শেষ করছেন প্রশাসনিক কর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

এমনও অভিযোগ উঠে আসছে যে একটা এলাকার কেবলমাত্র ভোটার যারা তাদেরকে খাবার দিয়ে পাশের ঘরে থাকা দিনমজুরকে খাবার না দিয়েই চলে আসছেন দায়িত্বশীলরা। যা এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়া শ্রমজীবি ওই নাগরিকের জন্য অবশ্যই চরম হতাশাজনক ঘটনা। প্রকৃতপক্ষে দেশের এই সংকটকালীন সময়ে ভোটার না খোঁজে প্রতিটি এলাকার সকল নিম্ন আয়ের দিনমজুর শ্রেণীর মানুষের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো খাবার তোলে দিতে হবে। যারা এই সুবিধা অবশ্যই পাওয়ার দাবি রাখে তাদের বাদ দিয়ে সুযোগ সন্ধানিদের হাতে সরকারের এই সহযোগিতা যেনো কোনক্রমেই আটকে না যায়।

প্রত্যেক এলাকায় ত্রাণ সহযোগিতা বিতরণের ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে হবে। সরকারি এবং ব্যাক্তিগতভাবে বিতরণ করা খাবার যেনো একই পরিবারে বার বার বন্টন না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কেবল সরকারি গাড়ি ও কর্মকর্তাদের যাতায়াতে যেদিকে সুবিধা সেদিকেই এসব খাবার বিতরণ করলে হবেনা। সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলা ও ১২টি থানার প্রত্যন্ত গ্রামেও যে সকল দিনমজুর ও শ্রমজীবি মানুষ রয়েছেন তাদের পরিবারে এই খাদ্য সহায়তা অবশ্যই পৌছে দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। এই কাজের দেখভাল ও গণনা জেলা প্রশাসক ও সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকেই করা উচিৎ।

হাতের ৫ আঙ্গুল যেভাবে সমান নয় সেভাবে সকল জনপ্রতিনিধি ও সকল কর্মকর্তাদের বিতরণ ব্যাবস্থাও শতভাগ নির্ভুল না হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই ভুল হওয়া কমিয়ে আনতে মনিটরিং ব্যাবস্থা চালু করা জরুরী। ত্রাণ সহায়তা যাদের কাছে বা যেসব এলাকায় এখনো পৌছেনি ওইসব এলাকার মানুষের কাছ থেকে এ বিষয়ে জানতে প্রশাসনকে একটি হটলাইন নম্বর চালু করতে হবে। যেনো প্রধানমন্ত্রীর এই সহযোগিতার বাইরে কোনভাবেই কোন শ্রমজীবি মানুষ থেকে না যায়।

আশা করছি দ্রুততম সময়ে জেলার সকল উপেজেলার সকল গ্রামের সকল দিনমজুর শ্রেণীর পরিবারে প্রধানমন্ত্রীর এই খাদ্য সহযোগিতা পৌছে দিতে প্রশাসনসহ সকল জনপ্রতিনিধিরা উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখবেন। পাশাপাশি ব্যাক্তিগতভাবে যারা খাবার দিয়ে এসব মানুষকে সহযোগিতা করতে চান তারা বিতরণের আগে আরও একবার খবর নিতে হবে কোন এলাকায় এখনো খাবার সামগ্রী মানুষের কাছে পৌছেনি। সকলের সঙ্গে সমন্বয় করে এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাড়ানো আপনার আমার ও সকলের মানবিক দায়িত্ব। – মো. আমিনুল ইসলাম, প্রধান সম্পাদক- সুনামগঞ্জ২৪.কম।

খবরটি শেয়ার করুন:

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন