বৃহস্পতিবার, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং

পুলিশের অ্যাকশন জরুরী: একটা শহর মৃত্যুপূরী হওয়ার চেয়ে কারাগার হওয়াও শ্রেয়

খবরটি শেয়ার করুন:

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনার প্রতি খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। স্বভাবগত কারণে বাঙ্গালীদের একটা অংশ এরকমই। আর তাদের প্রতি কঠোর আইনের প্রয়োগ এই মুহুর্তে অত্যন্ত জরুরী হয়ে পরেছে। যেহেতু সুনামগঞ্জে রোববার ও সোমবার ২জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং সর্বশেষ সোমবার শনাক্ত হওয়া রোগী জেলা সদরের বাসিন্দা তাই শহরের হাট বাজারগুলোতে মানুষের অবাধ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া এখনই প্রয়োজন। লকডাউন থাকাসত্তেও ঘর থেকে অপ্রয়োজনে বাইরে আসা এবং পাড়া মহল্লার প্রবেশ পথে দাড়িয়ে গল্পগুজব করা বন্ধে আরও কঠোর হতে হবে আইন শৃংখ্যলা বাহিনীকে। হাট বাজারের দোহাই দিয়ে শহরের রাস্তায় চলাচলকারিদের ঠেকাতে ভোগ্য পন্য সামগ্রীর ভ্রাম্যমান দোকান সকল এলাকায় স্থানান্তর করা যেতে পারে। অথবা প্রত্যেক এলাকায় ১টি করে ছোট আকারের সবজি- তরিতরকারি ও চালের অস্থায়ী দোকান এখনই স্থাপন করে এলাকার লোকদের ওই এলাকা থেকে বেরহওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।

প্রয়োজনে ফার্মেসীগুলোর কয়েকটিকে চিহ্নিত করে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ঔষধের হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু করতে হবে। এতে এলাকায় ঘরে থেকেই নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও ঔষধ পেয়ে যাওয়ায় নাগরিকরা শহরের রাস্তায় বেরহতে হবেনা। এই সময়ে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও ব্যাবসায়ি সমিতির নেতাদের সমন্বয় জরুরী হয়ে পরেছে। ঝুঁকি বাড়ছে আইন শৃংখ্যলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্য ও জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের। কেননা যতো খারাপ সময় আসবে মাঠ পর্যায়ে থেকে তাদেরকেই কাজ করতে হবে। এই ঝুঁকির বাইরে নন চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীরাও। তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও ব্যাবস্থা গ্রহণ এখনই জরুরী।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

নিম্ন আয়ের মানুষদের গত কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন মাধ্যমে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে যেসব এলাকার মানুষদের খাবার পৌছে দেয়া হয়েছে তাদের সকলের নামের তালিকা অবশ্যই সংগ্রহে রয়েছে। এই ক্ষেত্রে প্রশাসনের উচিৎ জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও যেসকল সামাজিক সংগঠনগুলো তালিকার মাধ্যমে শ্রমজীবিদের চিহ্নিত করেছেন তাদের সকলের নাম একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরী করা। পরিস্থিতি যতো খারাপ হতে থাকবে এই মানুষদের জীবনধারণ ততো ভয়াবহ হতে পারে। তাই প্রশাসনের মাধ্যমে খারাপ সময়েও কোন লোক সমাগম না করে রাতের বেলা প্রত্যেক বিপদগ্রস্তদের ঘরে খাবার পৌছে দেয়া সম্ভব হবে।

এখনই উদ্যোগ নিতে হবে চিকিৎসার ক্ষেত্রেও। যেহেতু লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে তাই করোনা ছাড়া অন্য রোগে আক্রান্ত মানুষ চাইলেও যানবাহন না থাকার কারণে হাসপাতালে যেতে পারবেন না। কিন্তু চিকিৎসা পাওয়া টা প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার। এই ক্ষেত্রে একটি হটলাইন নম্বর ব্যাপকভাবে প্রচার করে দিতে হবে। যেটিতে কল করলে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি ভ্রাম্যমাণ টিম পৌছে যাবে নাগরিকদের বাসায়। এই টিমের সদস্যরা শুধুমাত্র করোনা ব্যাতিত অন্য রোগের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেবেন। হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভ্রাম্যমান এই সেবা চালু রাখতে অর্থ সহায়তা দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে জনপ্রতিনিধিদেরকে। কেননা প্রশাসন একার পক্ষে সব কাজ সম্পাদন করতে পারবেনা। হটলাইনে কল করে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা চালু করা না গেলে অবশ্যই হাসপাতালে অন্য রোগীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য যানবাহনের ব্যাবস্থা করে দিতে হবে প্রশাসনকে। নির্দৃষ্ট কিছু যানবাহন চিহ্নিত করে দিতে হবে জেলার রোগীদের পরিবহনের জন্য। এবং এসব যানবাহনে সেবা পেতে আলাদা হটলাইন নম্বর প্রচার করে দিতে হবে। এতে ভোগান্তি কমবে নাগরিকদের।

হেলায় গা ভাসিয়ে চলা মানুষদের ঘরে থাকতে কঠোরভাবে বাধ্য করতে হবে এখন থেকেই । এক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রধান সড়কগুলোতে আইন শৃংখ্যলা বাহিনীর টহল বাড়ালেই হবেনা। তাদের কঠোরতার প্রমাণ রাখতে হবে সকল পাড়া মহল্লার রাস্তাগুলোতেও। যারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয় তাদের প্রতি মানবিক আচরণও কাম্য নয়। একটা এলাকায় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া অবাধে বিচরণ করা এসব মানুষদের জন্যই সকল বাসিন্দারা ভয়াবহ বিপদের সম্মুখিন হতে পারেন। তাই মহল্লাগুলোতে কতিপয়দের নিয়মিত আড্ডা বন্ধ করতে পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃংখ্যলা বাহিনীর অ্যাকশন জরুরী। মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে সংক্রমন প্রতিরোধ করা আবশ্যক। সংক্রমন রোধে অবাধ চলাচল বন্ধ করে দেয়াও আবশ্যক। একটা শহর মৃত্যুপূরী হওয়ার চেয়ে কারাগার হওয়াও শ্রেয়। অন্ততো বেঁচে থাকা মানুষেরা আবারও একটা সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখবেন।
মো. আমিনুল ইসলাম, প্রধান সম্পাদক- সুনামগঞ্জ২৪.কম

খবরটি শেয়ার করুন:

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন