বৃহস্পতিবার, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং

শাল্লায় টিসিবি’র পণ্য বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ: মানা হচ্ছেনা সামাজিক দুরত্ব

খবরটি শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিবেদক(শাল্লা)::

জেলার শাল্লা উপজেলায় সাশ্রয়ী মুল্যে জনগনের জন্য টিসিবির মালামাল বিক্রয়ে ব্যপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলায় আনন্দপুর গ্রামের রঞ্জিত রায়ের শ্রী পালি ভান্ডার নামে গোদামসহ একটি মাত্র টিসিবি অনুমোদিত ডিলার রয়েছে । ডিলার মালিক রঞ্জিত রায় ট্যাগ অফিসার মৎস্য কর্মকর্তা মামুনুর রহমানের সহযোগিতায় নিয়ম উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ি টিসিবির পণ্য বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

ডিলারের গোদাম হবিবপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর বাজারে হলেও কোন পন্য এখনো গোদামে আসেনি। ডিলার তার পছন্দের বিভিন্ন জায়গায় এসব পণ্য রাখছেন। টিসিবি’র নির্ধারিত নিয়মে উল্লেখ রয়েছে যেখানে গোদাম সেখানেই মাল সংগ্রহ করে তদন্তকারী অফিসার গোদাম পরিদর্শন পুর্বক মাল বিক্রির অনুমোদন দেবেন। কিন্তু সেটি শাল্লা উপজেলায় একেবারেই মানা হচ্ছেনা । নেই তদন্তকারী অফিসারও ।

সোমবার বেলা দুপুর ১টা ৩০মিনিটে আটগাঁও ইউনিয়নের দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন দৃশ্য লক্ষ করেন প্রতিবেদক।
এসব পণ্য বিক্রয়ের সময়ে ডিলার কোন আইন র্শংখ্যলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যদেরকেও অবগত করছেন না। তদন্তকারী অফিসার তো নেই ই মালামাল বিক্রয়ের স্থানে ডিলার নিজেও রয়েছেন অনুপস্থিত।

এলাকাবাসী বলছেন ‘সরকারি লোকজন সামনে রেখেই এই পণ্য বিক্রি করা উচিৎ’। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন কিছু বললে আমরা মালমাল কিনতে পারবো না, কি পরিমান মালামাল তারা আনে এলাকার কেউ জানেনা, নামে মাত্র কিছু মালামাল দিয়ে বলে আর পন্য নাই, শেষ হয়ে গেছে, আমাদের কিছু করার থাকেনা, কিন্তু এরা মালামাল সরিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে ফেলতে পারে, এদের উপরে নজর রাখা দরকার’।

ডিলার রঞ্জিত রায় বলেন ‘এখন সপ্তাহের ৭ দিন ৫ প্রকার মাল উত্তোলন করাহয়। প্রত্যেক দিন ১ হাজার কেজি চিনি,১ হাজার লিটার তৈল, ২০০ কেজি ডাল, ৫০০ কেজি ছোলা ও ১০০ কেজি খেজুর।’ তিনি বলেন‘ আমাদের এখানে কোন অনিয়ম নেই’।

সোমবার ট্যাগ অফিসার ছাড়াই মাল বিক্রি করেছে টিসিবির ডিলার। এসময় সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখেই লাইনে লোকজনকে দাড় করানো হয়। আব্দুল হেকিম নামের একজন লাইরন দাড়ানো মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন দেখা গেছে। কমরুজ্জামান নামে একজন গ্রাহকদেরকে ভোগ্য পন্য সরবরাহ করছেন দেখা গেছে। এসময় লোকজন প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ব্যপক অনিয়ম হচ্ছে বলে প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন।

তদন্তকারী অফিসার মামুনুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন সুনামগঞ্জ২৪.কম কে বলেন‘ ডিলারকে মৌখিক ভাবে উপজেলার ৭ টি স্থানে মালামাল বিক্রির জন্য বলেছি। সেখানে সপ্তাহে ১ দিন করে মাল বিক্রি করবে তদন্তকারী অফিসারের উপস্থিতিতে। কিন্তু তদন্তকারী অফিসার ব্যতিত মালামাল বিক্রির অনুমোদন দেয়া হয়নি। যদি এমন হয় তাহলে তদন্তপুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সুনামগঞ্জ২৪.কম/ এএইচএম/ এমএআই

খবরটি শেয়ার করুন:

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন