সোমবার, ২৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুলাই, ২০২০ ইং

দোয়ারায় খাদ্যাভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা করতে যাওয়া এক মহিলার পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

খবরটি শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

দোয়ারাবাজারে খাদ্যাভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা করতে যাওয়া এক অসহায় মহিলার পাশে দাড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা। এই অসহায় মহিলার নাম সুমী আক্তার। তিনি উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বাসিন্দা। জানা যায়, দুই সন্তানের জননী সুমী আক্তার দীর্ঘদিন ওমান প্রবাসে কাজ করে স্বামীর সংসারে টাকা রোজগার করে পাঠিয়েছেন। কিন্তু দেশে থাকা স্বামী সুমন তার প্রবাসী স্ত্রীর পাঠানো টাকা সংসারের কোনো কাজে না লাগিয়ে তার অগোচরে অন্যত্র আরো ২-৩টি বিয়ে করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

 

দেশে আসার পর সুমীর পাঠানো কোনো টাকারই হিসেব দিতে পারেনি সে। বাড়িতে টিনসেডের যে ঘরটা রয়েছে সেটাও স্ত্রীর টাকায় নির্মিত। স্ত্রী সন্তানদেরকে গ্রামের বাড়িতে ফেলে রেখে সে এখন লাপাত্তা। সাংসারিক ব্যয় নির্বাহের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে দিনাতিপাত করছেন সুমী আক্তার। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে ঘরে কোনো খাবার না থাকায় শেষ পর্যন্ত গত শনিবার রাতের আঁধারে গলায় দড়ি লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। প্রতিবেশীরা টের পাওয়ায় তার আত্মহত্যা চেষ্টা ভেস্তে যায়। খবর পেয়ে পরদিন রবিবার সকালে তার সহায়তায় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এগিয়ে আসে স্থানীয় একটি সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনসহ প্রতিবেশীদের অনেকেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আশিস রহমানের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নজরে আসে। ওইদিনই দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুুুলতানা ও ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনূর রশিদ মোবাইলে আশিস রহমানের মাধ্যমে সুুুমী আক্তারের সাথে যোগাযোগ করে তার খোঁজখবর নেন।

মঙ্গলবার(১৯ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে সুমী আক্তারের সাথে কথা বলে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এবং তার হাতে নগদ টাকা, ২০ কেজি চাউলসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মেহের উল্লাহ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন, আলীপুর সমাজকল্যাণ পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন, গণমাধ্যম কর্মী হাবীবুল্লাহ হেলালী, আলাউদ্দিন, আশিস রহমান প্রমুখ।

সুমী আক্তার বলেন, ‘বিদেশ থেকে স্বামীর কাছে পাঠানো টাকার কোনো হদিস নেই। সংসারের ব্যয় নির্বাহের কোনো খরচও দেয়না, খোঁজখবর নেয়না সে। সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পরেছি। ঘরে খাবার নেই, মান সম্মানের ভয়ে কারো কাছে হাত পাতিনি, কাউকে জানাইনি। শেষ পর্যন্ত অপারগ হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিই।’

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা জানান, মহিলাটির কাছ থেকে তার সকল অভিযোগ শুনেছি। তার সাথে তার স্বামী প্রতারণা করেছে। তাকে বুঝিয়েছি আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান না। তার সন্তানদের পড়াশোনা নিশ্চিত করতে পরামর্শ দিয়েছি। এই পরিবারটিকে সরকারি খাদ্যবান্ধব তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছি।

সুনামগঞ্জ২৪.কম/এআর/এসএইচএস

খবরটি শেয়ার করুন:

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন