রবিবার, ১লা ভাদ্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দোয়ারাবাজারে সাফল্যের শীর্ষে মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়

খবরটি শেয়ার করুন:

আশিস রহমান::

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে দোয়ারাবাজার উপজেলার পশ্চাৎপদ হাওর এলাকার বিদ্যাপীঠ মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়। উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুরের হাওরপারে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এ বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে এলাকার কিছু হাতেগোনা উদ্যোগী লোকদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই ফলাফলের দিক দিয়ে রীতিমতো চমক দেখিয়ে আসছে অঙ্কোরদগম এই প্রতিষ্ঠানটি। বরাবরের মতো এবার সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সর্বমোট ৫৬ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১টি জিপিএ -৫সহ কৃতকার্য হয়েছে ৫২ জন। পাসের হারের দিক দিয়ে ৯২.৮৬% পেয়ে বিদ্যালয়টি উপজেলার মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।

হাওর এলাকার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এবার পাসের হারের দিক দিয়ে উপজেলার মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যে হাওরপারের ঘরে ঘরে বইছে আনন্দের বন্যা। উল্লেখ, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের একান্ত সহযোগিতায় ২০১০ সালে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের প্রাথমিক অনুমোদন পায়।

এলাকাবাসী সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিককে ভালোবেসে তার নামে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করেন মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজোবধি এলাকা ও এলাকার বাইরের কয়েকজন উদ্যমী শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় অনেকটা বিনা পারিশ্রমিকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বিগতদিনের সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ চলতি বছর এই বিদ্যালয়টি জুনিয়র সেকশনে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নানান সমস্যা, সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও থেমে থাকেনি মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে আলীপুর, নূূূূরপুর, সোনাপুর, নন্দীগ্রাম, বৈঠাখাই, বরকাটা, হাছনবাহার, সুলতান পুুর ও পশ্চিম টিলাগাঁওসহ আশাপাশের ৮-১০টি গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

কথা হলে বিদ্যালয়ের প্রথম ও প্রধান উদ্যোক্তা মুহম্মদ মশিউর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, ‘আশপাশে কোনো মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এখানকার শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক শিক্ষার গন্ডি পেরোবার আগেই ঝরে পরতো। যারা এই প্রতিষ্ঠানটি দাড় করাতে অর্থ, শ্রম ও মেধা ব্যয় করেছেন তাদের অনেকেই এখন আর জীবিত নেই, এইসব মহান ব্যক্তিদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। তাদের সহযোগিতা না পেলে অজোপাড়া গাঁয়ের এই প্রতিষ্ঠানটি আজ আলোর মুখ দেখতো না।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ভাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই। উনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ছাড়া কোনোভাবেই এই প্রতিষ্ঠান এতোদূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতোনা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজোবধি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেচ্ছায় শ্রম ঘাম দিয়ে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রেখেছেন। যার সুফল আমরা সবাই ভোগ করছি। মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজ পর্যায়ে উন্নীতকরণ এখন সময়ের দাবি।’

বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষী আব্দুর রহিম বলেন, ‘অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে। শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়মুখী পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে খাসিয়ামারা নদীতে একটি সেতু এবং আলীপুর থেকে নূরপুর ও বৈঠাখাইগামী রাস্তা পাকাকরণ অতি জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে।’

মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বিজ্ঞান বিভাগ না থাকায় এলাকার অনেক শিক্ষার্থীরা বাইরের প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছে। তাছাড়া শিক্ষক সংকটও রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ এবার চালু করেছি কিন্তু অনুমোদন পাইনি। বিদ্যালয়ে একটি কম্পিউটার ল্যাবরেটরি ও সাইন্স ল্যাবরেটরি জরুরি দরকার। আমাদের শিক্ষক সংকট থাকা স্বত্ত্বেও বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে পাঠদান অব্যাহত রাখার চেষ্টা করি। সংকট ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে আমরা খুব শিঘ্রই সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মেহের উল্লাহ বলেন, ‘সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত দুর্গম হাওরাঞ্চলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয় বেশ ভালো রেজাল্ট করেছে। সুযোগ সুবিধা পেলে প্রতিষ্ঠানটি সামনে আরো ভালো করবে।’

সুনামগঞ্জ২৪.কম/এআর/এসএইচএস

খবরটি শেয়ার করুন:

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন