রবিবার, ১লা ভাদ্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দোয়ারাবাজারের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

খবরটি শেয়ার করুন:

আশিস রহমান::

দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রয়াত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা গুলজার আলীর অসহায় পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

মু্ক্তিযোদ্ধা গুলজার আলী উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের জিরার গাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় গত ২ মার্চ নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। জীবিত থাকাবস্থায় গুলজার আলী বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা পেতেন। তা দিয়েই তার সাংসারিক ও চিকিৎসার খরচ চলতো। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস যাবৎ তার সম্মানী ভাতা আটকে রয়েছে। একদিকে তার কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় অপরদিকে সম্মানী ভাতা আটকে থাকায় গুলজার আলীর অবর্তমানে তার পরিবার পরিজনরা অভাবে অনটনে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

গত ২৭ জুলাই অনলাইন নিউজ পোর্টাল সুনামগঞ্জ ২৪ ডটকমে ‘দোয়ারাবাজারে অভাব অনটনে চরম কষ্ট দিন কাটছে এক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রশাসনের নজরে আসে। প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক ভাবে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা প্রতিবেদকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে পরিবারটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন।
আজ (৩১ জুলাই ) শুক্রবার দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা প্রয়াত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা গুলজার আলীর কনিষ্ঠ সন্তান রোকেয়া খাতুনের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে উপহারস্বরূপ খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন। এসময় তার পরিবারের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবরও নেন ইউএনও।

গুলজার আলীর কনিষ্ঠ সন্তান রোকেয়া খাতুন প্রতিবেদককে বলেন, ‘গত কয়েক মাস যাবৎ ঋণ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে বেচেঁ আছি। আগামীকাল ঈদ। ঘরে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী নেই। হাতেও টাকা নেই। সন্তানদের দিকে তাকিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই ইউএনও স্যারকে। এই দুঃসময়ে তিনি আমাদের পাশে দাড়িয়েছেন, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আমাদের পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছেন।’

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা প্রতিবেদককে জানান, ‘সংবাদ পেয়ে পরিবারটির খোঁজখবর নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ এবং খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ও তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রয়াত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা গুলজার আলীর অসহায় পরিবার যাতে তার সম্মানী ভাতা ফিরে পায় এব্যাপারে ঈদের পরে আমি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে যোগাযোগ করব।’

সুনামগঞ্জ২৪.কম/এআর/এসএইচএস

খবরটি শেয়ার করুন:

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন