বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ষোলঘরে বাসার মালিকের উপর ভাড়াটিয়ার অতর্কিত হামলা: থানায় পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ

খবরটি শেয়ার করুন:

বিশেষ প্রতিবেদক::

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর এলাকায় একটি ৩তলা ভবনের কিছু কক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই ভাড়া দিয়ে আসছিলেন বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ খান। এই ভবনের মাসিক ভাড়া উত্তোলন করতেন আব্দুল্লাহর ছেলে ইমরান খান নিঝুম। সুরমা ২১১/২ নম্বর এই বাসভবনের নীচতলার ভাড়াটিয়া হিসেবে মালিকের নির্দেশিত সকল নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভাড়া নিয়েছিলেন এলাকার লিটন রহমান, শিপন রহমান ও তাহিন রহমান। কিন্তু ভাড়া নেয়ার পর থেকেই নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করাসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ড সংঘটনের মাধ্যেমে এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠতে থাকে শিপন লিটন ও তাহিনদের বিরুদ্ধে।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

এর বাইরেও বাসার মালিকের প্রতি অনাকাঙ্খিত আচরণ করাসহ স্থানীয়দের স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে থাকার অভিযোগ পাওয়া যায় শিপন ও লিটনদের বিরুদ্ধে। এলাকার অন্য একটি বাসায়ও ভাড়া থাকাকালীন সময়ে একই ধরণের অভিযোগে তাদেরকে স্থানীয় মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে বাসা ত্যাগ করতে অনেকটা বাধ্য করাহয়। বর্তমানে ষোলঘর এলাকার ২১১/২নম্বর বাসায় ভাড়া থাকা অবস্থায় বাড়ির মালিক গত মাসের ভাড়া চাইতে গেলে তুচ্ছ ঘটনার জেরে ভাড়াটিয়া লিটন, শিপন ও তাহিন ভাড়া না দিয়ে উল্টো মালিকের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় বাসার মালিক আব্দুল্লাহ খানের ছেলে ইমরান খান নিঝুম গুরুত্ব আহত হয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পেনাল কোডের ৩২৩/ ৩২৫/ ৩০৭/ ৩৭৯/ ১১৪ ধারায় অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে উল্লেখ করে এই ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা চেয়েছেন হামলার শিকার বাড়ির মালিকের ছেলে ইমরান খান নিঝুম। ঘটনাটি বর্তমানে “টক অব দ্যা টাউন”। এলাকাবাসীর কাছে এমন ঘটনা সৃষ্টি করেছে আতঙ্ক।

সুনামগঞ্জ২৪.কম এর অনুসন্ধান বলছে, ঘটনার পর উল্টো বাসার মালিকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন হামলাকারি ভাড়াটিয়া । নানা গণমাধ্যমেও ভাড়াটিয়ার পক্ষে প্রতিবেদন সম্পাদন করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে উপটৌকনও। ষোলঘরের স্থানীয়দের কাছথেকে পাওয়া ভাষ্য অনুযায়ি ভাড়াটিয়া শিপন ও লিটন এর আগেও এলাকায় অন্য বাড়িতে এমন ঘটনার জন্য আলোচিত। প্রভাব খাটিয়ে দিনের পর দিন অন্যের বাড়িতে ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ না করে অঘোষিত দখলদারিত্ব বজায় রাখা তাদের নিয়মে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে মালিককে মারধরের ঘটনার পরও একই বাড়িতে প্রভাব খাটিয়ে বসবাস করছে শিপন-লিটনরা। ভাড়াটির পক্ষে আবেগ সৃষ্টি করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন শিপনরা।

গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মালিকের উপর হামলার ঘটনার পরও মালিক স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংশা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঐ ভাড়াটিয়ার প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার কথা ভেবে বিষয়টি গড়ায় থানা পর্যন্ত। বর্তমানে পাল্টা পাল্টি অভিযোগ রয়েছে উভয় পক্ষের।


মালিক পক্ষে অভিযোগ দায়ের করা ইমরান খান নিঝুম সুনামগঞ্জ২৪.কম কে বলেন‘ তারা আমাদের কাছ থেকে গত ১ বছর যাবৎ বাসা ভাড়া নিয়া বসবাস করছে। শুরুর দিক থেকে ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের কাছ থেকে নিয়মিত বাসা ভাড়া আদায় সম্ভব হয় না। একপর্যায়ে তারা বাসা ভাড়ার টাকা পরিশোধ করা বন্ধ করে দেন। এবং ভাড়া চাইতে গেলে অপমান জনক কথা শুনতে হয়। এহেন আচরণ দেখে আমি বিচার শালিশ নিয়ে তাদেরকে কয়েক দফায় বাসা ছাড়ার জন্য অনুরোধ করি। বাসা ছাড়ার সময় সন্নিকটে আসা মাত্র তাদের ব্যবহারে ব্যপক পরিবর্তন দেখাযায়। তারা তিন ভাই বিভিন্ন জিনিসে ওতপেতে থাকে ঝগড়া করার জন্য। সেদিন সিঁড়ি কোঠার লাইট জ্বালানোর জন্য আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তার প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে ব্যপক মারধর, লাঞ্চিত হতে হয়। এমতাবস্থায় এলাকাবাসি আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। এখন আমি তাদের ভয়ে বাসায় অবস্থান করতে পারছি না। তারা নারী নির্যাতনের মামলা দিয়া জেলের ভাত খাওয়াবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। আমরা বাসা ভাড়া দিয়ে উল্টো বিপদেই পরেছি, আমরা আইনের সহযোগিতা চাই”।

এ বিষয়ে ভাড়াটিয়া শিপন সুনামগঞ্জ২৪.কম কে বলেন‘ আমাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগই মিথ্যে, সবকিছু সাজানো হয়েছে, আমরা ভাড়াও নিয়মিত পরিশোধ করি, লাইট জ্বালানো নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে, আমরা মারধর করিনি, আমাকে তারা মারধর করেছে, আমার সাথে তাদের কোন ঝামেলা ছিলোনা’।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ সহিদুর রহমান বলেন‘ এ বিষয়ে মামলার পর তদন্ত হচ্ছে, আমরা তদন্তশেষে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো’।

সুনামগঞ্জ২৪.কম/ এমএআই

খবরটি শেয়ার করুন:

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন