বৃহস্পতিবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

এমপি মানিককে নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিতর্কিত বক্তব্য : সমালোচনার ঝড়

খবরটি শেয়ার করুন:

আশিস রহমান::

করোনাকালে ছাতক-দোয়ারাবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনের নিরুত্তাপ হাওয়া হঠাৎ উত্তাপ হয়ে উঠছে সম্প্রতি সুনামগঞ্জ -৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিককে নিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আব্দুর রহিমের একটি বিতর্কিত বক্তব্যের জের ধরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের ভিডিও বক্তব্য নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে সমালোচনার ঝড় বইছে।

✅ আপনাদের ভালোবাসায়

গত ১২ অক্টোবর সোমবার দুপুরে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলায় সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এলজিএসপির ব্যাগ ও বয়স্ক ভাতা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ডাঃ আব্দুর রহিম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি হঠাৎ এমপি মানিক, প্রচলিত আমলাতন্ত্র, ইউএনও, জনপ্রতিনিধি এবং ভোটাধিকারের বিষয়ে সমালোচনায় মুখর হন। বক্তব্যে এমপি মানিককে বিনা ভোটের এমপি এবং সামরিক শাসক ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের শাসনামলকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনামল বলেও আখ্যায়িত করেন। দোয়ারাবাজারের বেহাল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ বীরপ্রতীক, ইউপি সদস্য হযরত আলী, ইউপি সদস্য আলীনূর, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এবিষয়ে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের একান্ত সচিব মোশাহিদ আলী জানান, আশা করবো অনতিবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে মানুষের আস্থায়, ভালবাসায় ও সম্মানে থাকতে সচেষ্ট হবেন।বিতর্কিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের দায় অন্যের উপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। বরাদ্দ যার, সেটা ব্যয় করার এখতিয়ার এবং দায় তাঁরই এর জন্য তিনি কাউকে দোষারোপ করতে পারেন না। এটাও হাস্যকর তিনি যে সরকারের আমলে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন সেই সরকারকে বিনা ভোটের সরকার বলছেন! এই সরকারের চেয়ে স্বৈরাচারী সরকার আমলকে ভাল বলছেন! এটাও সত্য যে, বিগত প্রায় বিশ বছরে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দোয়ারাবাজার উপজেলায় যে সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে তা এখন ভেঙে পড়েছে। জনগনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য তথা সরকার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে, কোনোটার কাজ চলমান, কেনো কোনোটা টেন্ডার হয়েছে এবং কোনো কোনোটা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আছে। আজ যাকে তিনি বিনা ভোটের এমপি বলছেন তার কিংবা তার ভাষ্য অনু্যায়ী এই অগতান্ত্রিক সরকারের সহায়তা ছাড়া তিনি কি আজ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারতেন? যদি সত্যই তিনি এই সরকারকে অগণতান্ত্রিক সরকার মনে করেন, তাহলে এই সরকারের কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা সনদটা গ্রহন করলেন কোন যুক্তিতে? তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তথা চেয়ারম্যানদের ঢালাও ভাবে ফকিরনির পুয়াইন বলা কি উচিৎ হলো? একজন জনপ্রতিনিধির কাছে অপর জনপ্রতিনিধিরা সম্মান পাওয়ার আশা করে। অন্যকে অসম্মান করে নিজেকে কখনো সম্মানিত করা যায় না।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগ নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম বীর প্রতীক জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সামরিক শাসক এরশাদের শাসনামল নিয়ে আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যান যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অপ্রত্যাশিত ও অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি তার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়ে মোবাইলে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডাঃ আব্দুর রহিম এবিষয়ে তার আর কোনো বক্তব্য নেই বলে তিনি প্রতিবেদককে জানান।

মানিক এমপিকে বিনা ভোটের এমপি এবং সামরিক শাসক এরশাদের শাসনামলকে গণতান্ত্রিক শাসনামল বলার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা অতিরঞ্জিত বক্তব্য। আমি কথা প্রসঙ্গে একটা কথার কথা বলছি। এরশাদের শাসনামলকে গণতান্ত্রিক শাসনামল বলিনি বলছি তার সময়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণের মাধ্যমে প্রশাসনিক গণতন্ত্র ছিলো। তিনি আরো বলেন, বক্তব্যের বিষয়ে এমপি মানিকের একান্ত সচিব মোশাহিদ আলীর ফেসবুক পোস্ট আমার নজরে এসেছে। এবিষয়ে পরে বিবৃতি দেব।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোয়ন নিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ডাঃ আব্দুর রহিম। সামরিক শাসক এরশাদের শাসনামলে উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে আব্দুর রহিম দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রতিষ্ঠা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সুনামগঞ্জ২৪.কম/এআর/এসএইচএস

খবরটি শেয়ার করুন:

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন

✅ বিজ্ঞাপন