বুধবার, ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ইং

সুনামগঞ্জ আমার, সিদ্ধান্ত আমার

নিউজটি শেয়ার করুন

ভোটের মাঠে প্রার্থীদের দেয়া কতো কথাই তো আমরা বছর বছর শুনে আসছি। কতোটা বাস্তবায়ন হয় এসব প্রতিশ্রুতির? সেবা দেয়ার চেয়ে সেবা পাওয়ার আকাশচুম্বি প্রত্যাশা নিয়েই ক্ষমতায় থাকা দিনগুলো কাটে অনেক নেতার। সাধারণ মানুষ কি তাহলে কেবল একটা দিনের জন্য ব্যবহার হয়? আচ্ছা ভোট দেয়ার পর ভোটারকে আর কখনো কোন নেতা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধন্যবাদ জানান? আমি দেখিনি। কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার বেলায় কোন ভোটারকে জিজ্ঞেস করা হয়? মনে হয়না। বাস্তবতা এরকমই। “অমুক ভাইয়ের দুই নয়ন- এলাকাবাসীর উন্নয়ন” কেবল প্রচারের বেলায়ই। ভোটে জয় মানে অমুক ভাইয়ের চোখে কালো সানগ্লাস। অমুক ভাইয়ের নয়ন আর এলাকায় থাকেনা। তাদের দৌড়ঝাপ ঢাকামুখি।

নির্বাচনের আগে অমুক ভাইরা রাস্তায় নেমে মানুষকে বুকে টানেন। জয়ের পর তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের দেখা করার আগে ৫-৭জন ব্যক্তিগত সহকারির সঙ্গে দেখা করতে হয়। অমুক ভাইদের চ্যালা চামুন্ডারা দাপট খাটিয়ে দখল নেয় বাজার-ঘাট। অত্যাচার চলে শ্রমজীবীদের উপর। অথচ তাদের ভোটেই ক্ষমতায় আসেন নেতারা। প্রটোকল দেয়া নেতার গাড়ির জন্য সাধারণ মানুষ তাদের রাস্তা ছেড়ে নীচে দাড়িয়ে থাকতে হয়। এটা যেনো অঘোষিত নিয়ম। খুব স্বাভাবিকতায় রুপ নিয়েছে এটি। অথচ বাংলাদেশকে বলাহয় গণপ্রজাতন্ত্রের দেশ। অর্থাৎ এই দেশের মালিক জনগন।

আমার মতে সাধারণ মানুষ সংসদ ভোটে ৫ বছরের জন্য তাদের কাজের লোক নির্বাচিত করেন। যে এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন কাজ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে এলাকার উন্নয়নের জন্য যে টাকা বরাদ্দ থাকে সে টাকা বিভিন্ন প্রকল্পে যথাযথ ব্যবহার করবে। মানুষের কথাগুলোই সংসদে দাড়িয়ে উপস্থাপন করবে। জনগন ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে যা বলবে সেটাই তাকে করতে হবে। জনপ্রতিনিধি মানে তো জনগনের প্রতিনিধি। আসলেই কি তা হয়?। নির্বাচিত হওয়ার পর কি খবর থাকে তাদের? বললেই তো আমরা দোষি। ৫বছর নিরবে সয়ে যান সাধারণ মানুষ। আর এরপর ১টা দিনই তাদের ক্ষমতা থাকে নিজেদের সিদ্ধান্ত দেয়ার। আসছে ৩০ডিসেম্বর সেই দিন। যেদিন আপনি, আমি, আমরা সকলে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবো আমাদের নিজ নিজ এলাকার প্রতিনিধি। যে সংসদে আমাদের হয়ে কথা বলবে। আমাদের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে।

হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের ৫টি আসনেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা দলের জন্য আপনার পেছন পেছন ঘুরে ভোট চাইছেন। যেভাবে আপনি বিগত ৫টি বছর আপনার এলাকার সমস্যা সমাধানের জন্য এসব প্রার্থীদের পেছন পেছন ঘুরেছেন। জনগনের ক্ষমতা কতোটা সেটা কেবল নির্বাচন এলেই জনগন আচ করতে পারেন। আর তাই নির্বাচনে অবশ্যই ভুল করা যাবে না। সুনামগঞ্জ আমার। সিদ্ধান্তটাও আমার। আমার জেলার জন্য ভাবতে হবে আমাকেই। আমি যাকে আমার ভোট দিয়ে ক্ষমতায়িত করতে যাচ্ছি তার যোগ্যতা কতোটা?। সে কি আমারচেয়েও অযোগ্য?। আমার পক্ষে যে কথা বলবে সে কি আমার চেয়েও কম জানে?। যার হাতে ক্ষমতা তোলে দেবো সে কি এই ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার করবে?। আমার এলাকার মানুষের জন্য সে কি আসলেই কাজ করতে পারবে?। সে কি কাজের ক্ষেত্রে আমার অঞ্চলকে প্রাধান্য দেবে?। সে যে দলই করুক আসলেই কি সে ভালো মানুষ?। সে কি প্রভাব বিস্তার করতে চ্যালা-চামুন্ডাদের দিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়?। ভাবতে হবে সব। কেননা এই সিদ্ধান্ত ৫ বছরের জন্য। এই সময়ের মধ্যবর্তী কোন সময়ে আপনি -আমি- আমরা চাইলেও তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবো না। আমার সুনামগঞ্জের জন্য আমাকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আমরা অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় চাইবো। কারণ বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রকৃত ইতিহাস যারা জানেন তারা কখনোই ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তবে পাশাপাশি ব্যাক্তির ব্যাক্তিত্ব যাচাই করাও জরুরী। যাকে ভোট দিলেন সে যদি কালকে আপনার মাথায়ই কাঁঠাল ভেঙ্গে খায়, তার জন্য যদি আপনার পরিবার ও আপনাকেই বিপদের মুখোমুখি হতে হয় তাহলে ক্ষতি আপনারই। যে ব্যাক্তি বিগত সময়ে আপনার কথার গুরুত্ব দিয়েছেন তাকেই ভোট দিন। তাকেই নির্বাচিত করুন যে এলাকায় মানুষের সঙ্গে থেকেছে। নির্বাচিত তাকেই করা যায় যে কেবল ভোট কে সামনে রেখে এলাকায় শেষ সময়ে এসে কাজে হাত না দিয়ে বরং সারা বছরই উন্নয়ন কর্মকান্ডের সঙ্গে ছিলো তাকেই আপনার প্রতিনিধি করা যায়।

মনে রাখতে হবে একটা ভোটও সরকার গঠনে অন্যতম ভুমিকা রাখে। আপনার ১টা ভোট নির্বাচনী ফলাফল বদলে দিতে পারে। আপনার পরিবারের জন্য যেভাবে আপনি ভেবে চিন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন সেভাবে আপনার এলাকা ও বাংলাদেশের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়ার বেলায় আপনাকে অবশ্যই ভাবতে হবে। বিগত সময়ে যারা আপনার মৌলিক চাহিদা পুরণের জন্য সবচেয়ে বেশী সুবিধা করে দিয়েছে তাদের ভোট দিন। যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে সরকার সুনামগঞ্জে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছে সে সরকারকেই ক্ষমতায় আনুন। নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, চিকিৎসাসেবা, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও হাওরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে যে সরকার অবদান রেখেছে সে দলের সরকারকেই ক্ষমতায় আনুন। আপনি এই দেশের মালিক। আপনার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। তবে গুটি কয়েক নেতার উপর ক্ষোভ থাকায় আপনার ভোটের কারণে ভীনদেশী- পাকিস্তানী দালালরা যেনো ক্ষমতা দখল না করে বসে সেটিও ভাবুন। এটা আপনাকে ভাবা উচিৎ যে অযোগ্য নেতাকে আপনার পছন্দের দল বহিস্কার করতে পারবে কিন্তু বাংলাদেশ বিরোধী শক্তিকে চাইলেও আপনি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাতে পারবেন না। সুনামগঞ্জ কে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নত অঞ্চল হিসেবে দেখতে চাই আমরা। আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হোক সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের ৫জন সু-সন্তানের হাত ধরেই।

– মো. আমিনুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™