বুধবার, ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ইং

আসছে রমজান, বাড়ছে মশলা ও ভোগ্যপণ্যের দাম: বিপাকে ক্রেতা

নিউজটি শেয়ার করুন

মনোয়ার চৌধুরী::

পবিত্র মাস রমজান কে সামনে রেখে বাজারে মশলা ও নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম কৌশলে বাড়াতে শুরু করেছে কিছু অসাদু ব্যবসায়িরা। এতে ক্রেতারা পরেছেন বিপাকে। কিন্তু রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য সামগ্রীর মুল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে প্রশাসনের বাজার মনিটরিং কমিটি। তাদের এই কর্মযজ্ঞ কতোটা কাজে আসছে সেটিই এখন সাধারণ ক্রেতাদের আলোচনার বিষয়। গত মার্চ মাসের শেষ দিক থেকেই দফায় দফায় বেড়েছে এসব মশলা ও বিভিন্ন ভোগ্য পণ্যের দাম। সম্প্রতি বাজার ঘুরে এই চিত্র চোখে পরেছে সুনামগঞ্জ২৪.কম এর এ প্রতিবেদকের। ক্রেতারাও জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রীয়া।

জেলা শহরের নবীনগরের এক বাসিন্দা তপু আহমেদ বলেন ‘বাজারে মশলার দাম বাড়ছেই, ২ টাকা করে দুই দিন পর পর বাড়াতে বাড়াতে এখন মশলার দাম অনেক বেড়ে গেছে, মুলতো রমজান মাস কে সামনে রেখেই কিছু ব্যবসায়ি এমনটা করেছে, আমরা এখন বিপদে’।

মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষবেড় গ্রামের হোসাইন মিয়া এসেছিলেন বাজারে। তিনি গরম মশলার মূল্য নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। বিক্রেতার সঙ্গে বাক বিতন্ডাও কম হয়নি। তিনি বলেন ‘ আমাদের গ্রাম গঞ্জে মিল এর কুটা গুড়া মশলা যেমন তেমন কম টাকায় পাইলেও গরম মশলা কিনতে সুনামগঞ্জ শহরে আসতে হয়, কিন্তু এইখানে আমরা ক্রেতারা প্রতারিত হই, কিছু ব্যবসায়ি বেশী লাভের জন্য অযথাই সিন্ডিকেট করে মালের দাম বাড়ায়, আর এটা রমজান উপলক্ষে ২গুন বেশী’।

শনিবার (২০এপ্রিল) দিনব্যাপী সুনামগঞ্জ শহরের জেল রোড এলাকা, মধ্যবাজার, ট্রাফিক পয়েন্ট, কালিবাড়ি, ওয়েজখালী, নতুন পাড়া, হাসন নগর, ষোলঘর, মোহাম্মদ পুর, নবীনগরসহ শহরের বিভিন্ন ভোগ্য পণ্য বিক্রেতা দোকান ও বাজার ঘুরে অতিরিক্ত মূলে মশলাসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শহরের পুর্ব বাজার এলাকায় খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শিশির এন্টারপ্রাইজ এর ব্যবসায়ি বিনয় দেবের দেয়া তথ্যে বাজারে প্রতিকেজি দারুচিনি গত কিছুদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৬৫টাকায় যা এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজী ৩১০টাকায়। গুলমরিচ ১৩শ৫০টাকা কেজি, লবঙ্গ ১৪০০টাকা কেজি, এলাচি আগে ছিলো ১৮শ টাকা কেজী যা এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজী ২১শ ৫০টাকায়। লং ব্যবসায়িরা কিনছেন প্রতি কেজী ৭০০টাকায় আর বিক্রি করছেন ১৪শ টাকায়। মেথি ১৫০ টাকা , কালিজিরা ২৮০টাকা কেজি, এছাড়া প্যাকেটের এক কেজি মরিচ ৩৯৫টাকা, হলুদ ৩৬০টাকা কেজি, ধনিয়া ২৬০টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। আর গুড়া মশলার মিল মালিকরা প্রতি কেজী মরিচ খুচরা বিক্রি করছেন ২৫০টাকায়। এছাড়া হলুদ ২২০টাকা কেজি, ধনিয়া ২০০টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

মশলা ছাড়াও বাজারে প্রতি কেজী পেয়াজ(দেশি) গত মাসে বিক্রি হয়েছে ২৪টাকা কেজী দরে যা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ২৯টাকা দরে। ভারতীয় পেয়াজ প্রতি কেজী ছিলো ১৮টাকা যা এখন বিক্রি হচ্ছে ২২টাকা কেজী দরে। রসুন গত মাসে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজী দরে যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়। আদা ছিলো ১১০ টাকা কেজী যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। প্রতি কেজী ডাল ৬০টাকায় বিক্রি হয়েছে যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। ছোলা ৮০ থেকে ৮৫টাকা কেজি, মটর ৫০টাকা কেজি, চিনি ছিলো ৫৫টাকা কেজী যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৮টাকায়।

শহরের নতুন বাজার এলাকার মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স এর ব্যবসায়ি জিহন মিয়া বলেন ‘প্যাকেটের এক কেজি মরিচ ৩২৪ টাকা কিনে ৩৮০ টাকা পাইকারি ভাবে বিক্রি করা হয়, হলুদ ২৯০টাকায় কিনে ৩৪০টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ধনিয়া ২৪০টাকা, ছোলা ৬৮টাকা কিনে ৭০টাকা কেজি, চিনি ৫১টাকা কিনে ৫২টাকা কেজি, আদা ৯০টাকায় কিনে ৯৫টাকা কেজি বিক্রি করছি, আমাদের কাছ থেকে কিনে বাজারের ব্যবসায়িরা কিছু টাকা বাড়িয়ে লাভ গুনছেন’।

মশলার পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বণিক ট্রেডার্স এর ব্যবসায়ী বণিক বলেন ‘আমরা পাইকারি ভাবে মেথি ৮০টাকা করে কিনে ১০০টাকা কেজি বিক্রি করছি ,কালিজিরা ১৫০টাকায় কিনে ১৭০টাকা কেজিতে বিক্রি করছি, দারুচিনি ২৫৫টাকা কিনে ২৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি, গুলমরিচ ৫০০টাকা করে কিনে ৫৫০টাকা কেজি, এলাচি ১৮শ৫০টাকায় কিনে পাইকারি ভাবে ১৯শটাকা কেজিতে বিক্রি করছি’।

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাজার যেনো অস্থিতিশীল না হয়ে পরে যেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি ও অসাদু ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক(চলতি দায়িত্ব) মো. শফিউল আলম। তিনি সুনামগঞ্জ২৪.কম কে বলেন ‘ যারা কৌশলে রমজানকে সামনে রেখে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে, জনগনকেও সচেতন হতে হবে, তারা যেনো প্রশাসন কে সরাসরি অভিযোগ করেন বা অবগত করেন, আমাদের মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হবে, মনিটরিং টিম থাকবে’।

সুনামগঞ্জ২৪.কম/ এমসি/ এমএআই

নিউজটি শেয়ার করুন

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™

☑ বিজ্ঞাপন™