বৃহস্পতিবার, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সুনামগঞ্জের নাসুমের বোলিং নৈপূন্যে জয়ের পথে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক::

সুনামগঞ্জের নাসুম আহমেদের বোলিং নৈপূন্যে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১০০ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশ। ৪ ওভারে স্বল১৯ রানে ৪টি উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। এর আগে ৪ টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ছিল সাকিবের। ২০১৬ সালে বেঙ্গালুরুতে ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। আজ সে রেকর্ড ভাঙলেন নাসুম। ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। সব মিলিয়ে দুই দলের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটি অবশ্য থেকে গেল অস্ট্রেলিয়ান পেসার ডার্ক ন্যানেসেরই। ১৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, ২০১০ সালে ব্রিজটাউনে।

সফরকারি দলকে চাপে ফেলতে স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথম বলেই সাফল্য মাহেদি হাসানের, বোল্ড করেন অ্যালেক্স কারেকে। পুঁজি অনেক কম, মাত্র ১৩১ রানের। জিততে হলে বোলারদের দারুণ কিছু করতে হবে। শুরুটা কিন্তু ভালোই করলেন টাইগার বোলাররা। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১১ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ৩ উইকেট তুলে নেন তারা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটসম্যান ইনিংসের প্রথম বলে আউট হলেন, অ্যালেক্স ক্যারি বোল্ড হয়েছেন মেহেদী হাসানের বলে। জশ ফিলিপে স্টাম্পড হয়েছেন নাসুম আহমেদের বলে, প্রথম কোনো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার হিসেবে টি-টোয়েন্টি এই আউট হলেন তিনি। এরপর ময়জেস হেনরিকেস হয়েছেন সাকিবের বলে বোল্ড। ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। টি–টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়া এর চেয়ে কম রানে প্রথম ৩ উইকেট হারিয়েছে শুধু একবার।  নবম ওবারে নাসুম আহমেদ বোলিংয়ে ফিরলেন, পেয়ে গেলেন উইকেট। লেগস্টাম্পের বেশ বাইরে নিরীহ বলটা ম্যাথু ওয়েড ছেড়ে দিলে হতে পারতো ওয়াইড। সেটিতেই শট খেলতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। ফাইন লেগে ভালো ক্যাচ নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ১০ম ওভারে চতুর্থ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভেঙেছে মার্শের সঙ্গে ওয়েডের ৪৫ বলে ৩৮ রানের জুটি।এর আগে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা হাত খুলে খেলতেই দেননি স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের। নাইম শেখ, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা রান পেলেন বটে। কিন্তু সেটা ঠিক টি-টোয়েন্টি ধাঁচের ব্যাটিংয়ে নয়। শেষদিকে আফিফ হোসেন ধ্রুব কিছুটা চালিয়ে খেলে ৭ উইকেটে ১৩১ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন দলকে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই অসি বোলারদের চাপের মুখে ছিল বাংলাদেশ। আত্মঘাতী হয়ে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার। রীতিমত হাসফাঁস করছিলেন উইকেটে, শেষ পর্যন্ত নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনেন বাঁহাতি এই ওপেনার। জশ হ্যাজলেউডের বলটি বানিয়ে মারতে গিয়েছিলেন, কাট করে সেটি নিজের উইকেটেই টেনে আনেন। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলের ঘটনা। সৌম্য ৯ বলে করেন মাত্র ২ রান। সৌম্য ফেরার পর নাইম শেখ মোটামুটি ভালো খেলছিলেন। মিচেল স্টার্ককে ফ্লিক করে বড় এক ছক্কাও হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু পরে আবার রানের গতি আটকে যায় নাইমের। সেই চাপ থেকেই বোধ হয় অ্যাডাম জাম্পাকে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়েছিলেন সপ্তম ওভারের শেষ বলে। বলটি মিস করে হন পরিষ্কার বোল্ড, ২৯ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় নাইম করেন ৩০ রান। এরপর দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মিলে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন কিছুটা। যদিও তেড়েফুরে খেলতে পারেননি তারাও। ৩২ বলের জুটিতে তারা যোগ করেন ৩৬ রান

ডাউন দ্য উইকেটে তুলে মারতে গিয়ে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। হ্যাজলউডের বলে দৌড়ে গিয়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন ময়েচেস হেনড্রিকস। মাহমুদউল্লাহর ২০ বলে সমান রানের ইনিংসটিতে ছিল একটি ছক্কার মার। এরপর নুরুল হাসান সোহানও উইকেটে টিকতে পারেননি। অ্যান্ড্রু টাইয়ের এক ডেলিভারি অনেকটা সামনে এগিয়ে গিয়ে ওয়াইডের কাছাকাছি জায়গা থেকে তুলে মারেন তিনি, ৪ বলে ৩ রান করে হন মিচেল মার্শের ক্যাচ। ৮৬ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৪.৩ ওভারও পার হয়ে যায়। উইকেটে ভরসা হয়ে ছিলেন সাকিব। কিন্তু আর সবার মত তিনিও ঠিক টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৩৬ রান করে হ্যাজেলউডের স্লোয়ারে বোল্ড হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। শামীম হোসেন পাটোয়ারী আন্তর্জাতিক আঙিনায় এবার প্রথম কঠিন বোলিংয়ের মুখে পড়েন। স্টার্কের টানা দুই বলে দুই করে চার রান নিলেও পরে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে পরাস্ত হন তরুণ এই ব্যাটসম্যান (৩ বলে ৪), ওপরে যায় লেগস্ট্যাম্প।

আফিফ হোসেন শেষ ওভারে এসে আউট হয়েছেন সেই স্টার্কের বলেই। এবারও বোল্ড, ১৭ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৩ রান করে ইনিংসের শেষ বলে উইকেট হারান আফিফ। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন হ্যাজলেউড। ৪ ওভারে স্বল্প রানে ৩টি উইকেট নেন এই পেসার। স্টার্কের শিকার ২টি।

উল্লেখ্য নাসুম আহমেদ সুনামগঞ্জের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন। নাসুম আহমদের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের মধুরাপুর গ্রামে। তিনি সুনামগঞ্জের প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাবের খেলোয়ার হিসেবে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগ খেলেছেন।

error: Content is protected !!