বৃহস্পতিবার, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

হেফাজতকে সুরসুরি দিয়ে রাজনৈতিক উশৃংখ্যলতা কাম্য নয়

রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ করেই হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। দেশে একের পর এক ইস্যু যেভাবে আসছে আবার নতুন আরেক ইস্যুর কারণে মানুষ আগেরগুলো ভুলে যাচ্ছে, সেভাবে সহজ মনে হচ্ছেনা এটিকে। বরং বড় ধরণের ক্ষতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের রাজনীতি। সুনামগঞ্জের শাল্লার ঘটনাকেও মনে হয়েছে কিছু মানুষ নিজেদের মতো করে টেনে ঘটনাকে ভিন্নখাতে মোড় দিতে নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছেন। এই তালিকায় হাতেগোনা এক দুইজন সংবাদকর্মীরও ভুমিকা দেখে অবাক হয়েছি। সংবাদ সংগ্রহ ও সম্পাদনায় কখনোই নিজের মতামত প্রয়োগ বা নিজের ইচ্ছে অনুযায়ি ঘটনা সাজিয়ে নেয়া উচিত নয়। এটিকে কেবল অপ সাংবাদিকতাই বলবো না, এটি অপরাধের পর্যায়ে পরে।

শাল্লার ঘটনাটি যেহেতু এখনো তদন্তাধীন তাই বিস্তারিত বিশ্লেষণে না যাই। তবে এইটুকু উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ঘটনাটি মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যকার সহিংসতা নয়। কখনোই হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে এই অঞ্চলে বিরোধপূর্ণ অবস্থান ছিলোনা। আর এখনো নেই। বরং এখানে ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে ব্যাক্তিগত আক্রোশ মেটানোর সুযোগও কম নেয়া হয়নি। এই অঞ্চলে কাজ করে দু’জন দুষ্ট লোকের সম্পর্কে অনেকেই অবগত হয়েছেন। যারা বর্তমানে আইনের প্রয়োগের ফলে কারাগারে রয়েছে। আদালত নিশ্চই ন্যায় বিচার করেন এবং অচিরেই দেশের মানুষ এর সর্বশেষ জানতে পারবেন।

এই দেশে নানা দল রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়েছে। এখনো প্রভাব রয়েছে বড় কয়েকটি দলের। তবে নতুন করে রাজনীতিতে আলোচনার মুল বিষয় এখন ইসলামী দল হেফাজত। এর আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে জামায়াতে ইসলামকে নিয়ে ছিলো আলোচনা। হেফাজতে ইসলাম যদিও রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি কিন্তু ধর্মীয় দল হিসেবে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় দলের একটি। তাদের ঐক্যবদ্ধতা অবশ্যই উল্লেখ করার মতো। কর্মসূচিগুলোতে তাদের উপস্থিতি ক্ষমতাসীন দলকে ভাবিয়ে তোলে। সর্বশেষ ব্রাক্ষণবাড়িয়া অঞ্চলে হেফাজতের কর্সূচিতে ভয়াবহ চিত্র দেখতে হয়েছে। এমন উগ্রতা কখনোই ইসলাম সমর্থন করেনা। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সকল ধর্মই শান্তির কথা বলে।

মুল কথা হলো বর্তমান সময়ে হেফাজতকে প্রতিপক্ষ বানাতে কিছু মানুষ মরিয়া ভুমিকায়। অথচ এই দেশে কখনোই রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষ কোন ধর্মীয় দল ছিলোনা। আর দেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় দলকে প্রতিপক্ষ ভুমিকায় টেনে নিয়ে আসা মোটেও ভালো কিছুর ইঙ্গীত করেনা। কারন এর আগেও ভারতবর্ষে ধর্মীয় দাঙ্গা ও দেশভাগ দেখতে হয়েছে। বর্তমান সময়ে হেফাজতকে সুরসুরি দিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ উশৃংখল করার যে অপচেষ্টা চলছে সেটা এখনই বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনেকরি।

ধর্মীয় উস্কানীতে উশৃংখলতা একটি দেশকে বসবাসের অযোগ্য করে দিতে যথেষ্ঠ। সুনামগঞ্জে হেফাজতে ইসলাম ও অন্যান্য দলের মধ্যকার সম্পর্কের চেয়ে এই জেলার মানুষে মানুষে সম্প্রীতি সবচেয়ে বড় বলেই মনেকরি। কখনোই ধর্ম আর রাজনীতিকে এসাথে গুলিয়ে ফেললে চলবেনা। তাই অপরিপক্কতায় পূর্ণ কিছু রাজনৈতিক কর্মীর জন্য দলকে বড় ক্ষতির দিকে না ঠেলে দায়িত্বশীলতার প্রমাণ রাখতে হবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের। উস্কানীর বদলে আরও জানতে হবে এবং সমন্নয় করতে হবে। নিশ্চই দলের চেয়ে দেশ বড় এবং নিজেদের শহরের মানুষে মানুষে সম্প্রীতিকে বড় করে দেখা উচিৎ।

মো. আমিনুল ইসলাম, প্রধান সম্পাদক- সুনামগঞ্জ২৪.কম।

error: Content is protected !!